
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পটুয়াখালীর কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র চর গঙ্গামতি সৈকতের ধুধু বালুচরে প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে অজস্র ছোট ছোট মৃত ঝিনুকের খোলস। শুধু গঙ্গামতিতেই নয়, কুয়াকাটার বিস্তীর্ণ ৩২ কিলোমিটার সৈকতের বিভিন্ন অংশে ভেসে আসা ঝিনুকের খোলস ঢেকে দিচ্ছে উপকূলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত বেলাভূমি।
স্থানীয় জেলে ও পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, এই দৃশ্য আগে মাঝে মাঝে দেখা গেলেও এবার তা অনেক বেশি পরিমাণে দেখা যাচ্ছে। গঙ্গামতির স্থানীয় জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে বড় ঝিনুক পাওয়া যেত, সেগুলো বিক্রিও করতাম। এখন শুধু ছোট ছোট খোলস পড়ে থাকে, যা ঢেউয়ের সঙ্গে আবার সরে যাচ্ছে।”
একই এলাকার আরেক জেলে জসিম উদ্দিন বলেন, “এতো পরিমাণে ঝিনুকের খোলস আগে কখনও দেখিনি। এগুলোর কোনো ব্যবহার নেই বললেই চলে। শুধু পড়ে থাকে।”
এদিকে, পর্যটকদের কাছে সাদা ঝিনুকে মোড়ানো সৈকতের দৃশ্য যেন এক অনন্য অভিজ্ঞতা। কুয়াকাটা ঘুরতে আসা পর্যটক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “এখানকার প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে মন জুড়িয়ে যাচ্ছে। যেদিকে তাকাই, শুধু সাদা ঝিনুক ছড়িয়ে আছে। পরিবারের জন্য আমরা কয়েকটি ঝিনুক কুড়িয়ে নিয়েছি স্মৃতিস্বরূপ।”
তবে পরিবেশবিদদের দৃষ্টিতে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি গভীর উদ্বেগের কারণ। বিডিক্লিন কুয়াকাটা অঞ্চলের সমন্বয়ক ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান শাওন বলেন, “প্রাকৃতিক নিয়মে ঝিনুক ভেসে আসে, কিন্তু এ বছর যেভাবে তা বাড়ছে, তা নিয়ে আমরা চিন্তিত। পরিবেশের ভারসাম্যে এর প্রভাব থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা জরুরি।”

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের খেপুপাড়া নদী উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সামিউল আলম বলেন, “সমুদ্রের গভীরে থাকা ঝিনুক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা পরিবর্তনসহ নানা কারণে মারা যেতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে ল্যাবভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।”
পর্যটনপ্রেমীরা যেখানে উপভোগ করছেন এক ভিন্ন সৌন্দর্যের অভিজ্ঞতা, সেখানে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা খুঁজছেন এর পেছনের কারণ। তাই এখন সময় পরিবেশগত প্রভাব ও বিপদ শনাক্তে দ্রুত ও নির্ভুল গবেষণা শুরু করার।
সংবাদদাতা: পর্যটন সংবাদ প্রতিনিধি, কুয়াকাটা



