মেট্রোরেল বদলে দিয়েছে মিরপুরের চেহারা: নতুন ঢাকার বাণিজ্যিক ও পর্যটন কেন্দ্র

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ঢাকার মিরপুর একসময় পরিচিত ছিল নিরিবিলি আবাসিক এলাকা হিসেবে। সন্ধ্যা নামলেই ফাঁকা হয়ে যেত সড়কগুলো। পল্লবী, মিরপুর ২, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর সেকশন ছিল তুলনামূলক শান্ত ও নিস্তরঙ্গ। কিন্তু সময় বদলে গেছে। আর এই পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি মেট্রোরেল।

ভোলার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ১৯৯৬ সালে ব্যবসার আশায় ঢাকায় এসেছিলেন। পল্লবীতে বসবাস শুরু করেন সেই সময়। তিনি বলেন, “তখন বহুতল ভবন বলতে ছিল কেবল গার্মেন্টস কারখানা। আজ পুরো মিরপুর বহুতল ভবনে ভরে গেছে। মেট্রোরেলের কারণে এখানে যোগাযোগ যেমন সহজ হয়েছে, তেমনি ব্যবসাও বহুগুণে বেড়েছে।”

সত্যিই তাই। মিরপুর ২, ১০, ১১ ও পল্লবী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, একের পর এক গড়ে উঠছে আধুনিক হাসপাতাল, শপিং মল, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, সিনেপ্লেক্স ও অফিস ভবন। এসব প্রতিষ্ঠানের বিকাশ স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে।

বিশেষভাবে নজরকাড়া একটি স্থান হলো মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী সনি স্কয়ার। ১৯৮০ দশকে এটি গার্মেন্টস কারখানা হিসেবে নির্মিত হলেও পরে ‘সনি সিনেমা হল ও মার্কেট’ হিসেবে খ্যাতি পায়। ঢাকাই সিনেমার দুর্দিনে এটি বন্ধ হয়ে পড়লে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেছিল। ২০২১ সালে আধুনিক রূপে এটি ফিরে আসে করপোরেট অফিস, ফুড কোর্ট, ছাদ রেস্তোরাঁ ও সিনেপ্লেক্সসহ একটি পূর্ণাঙ্গ লাইফস্টাইল হাবে রূপান্তরিত হয়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজু আহম্মেদ, যিনি ১৯৮২ সাল থেকে মিরপুর ২-এ বসবাস করছেন, বলেন, “১৯৮৬ সালে সনি হল চালু হওয়ার পর ব্যবসায়িক গতি বাড়ে। পরে এটি বন্ধ হলে আবার স্তিমিত হয়ে পড়ে। কিন্তু এখন মেট্রোরেল আসায় মিরপুর আবার জেগে উঠেছে। এটি এখন নতুন ঢাকার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।”

মিরপুর ১০ এখন মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের অন্যতম কৌশলগত কেন্দ্র। শেওড়াপাড়া থেকে পল্লবী পর্যন্ত স্টেশনগুলোর মাঝামাঝি অবস্থানে এটি পরিণত হয়েছে বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্রে। নতুন নতুন শপিং মল, ক্যাফে, ব্র্যান্ড আউটলেট এবং আধুনিক স্থাপনায় সাজানো প্রতিষ্ঠান এখানে জমে উঠেছে।

একসময়কার নিরিবিলি পল্লবী এখন পরিণত হয়েছে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক হাবে। পল্লবী হল ঘিরে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক আবহ এখন জায়গা করে নিচ্ছে শপিং কমপ্লেক্স, অফিস, হাসপাতাল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। পল্লবী, রূপনগর, ডিওএইচএস, আরামবাগ, আলুব্দী—সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সুসংগঠিত শহুরে জীবনযাপন কেন্দ্র।

এই বদল শুধু অর্থনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও। যেখানে নস্টালজিয়া আর আধুনিকতার মিলনে গড়ে উঠেছে নতুন দিনের মিরপুর। পর্যটকদের জন্য এখন এটি শুধু আবাসিক এলাকা নয়, বরং এক আধুনিক নগর অভিজ্ঞতার আকর্ষণীয় কেন্দ্র।

Read Previous

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে পর্যটকদের জন্য সুখবর: ফ্রি ১ জিবি ইন্টারনেট ডেটা পাচ্ছেন দেশের সব মোবাইল গ্রাহক

Read Next

গোপালগঞ্জে সহিংসতার পরও স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন, পর্যটন ও পরিবহন চলাচলে ধীরে ধীরে গতি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular