
ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : টানা ৪৩ দিনের অচলাবস্থা শেষে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার পুনরায় কার্যক্রমে ফিরছে। বুধবার রাতে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া তহবিল প্যাকেজের মাধ্যমে এই দীর্ঘতম সরকারি শাটডাউনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল। এখন বিলটি রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায়, যা সম্পন্ন হলে সরকারি সংস্থাগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে।
এই অচলাবস্থার কারণে বিশেষ করে বিমান পরিবহন খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। মার্কিন বিমান সংস্থাগুলোকে বাধ্য হয়ে শত শত ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব করতে হয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) কর্মী সংকটের কারণে ৬ শতাংশ পর্যন্ত ফ্লাইট কমানোর নির্দেশ দেয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ভ্রমণে প্রভাব ফেলেছিল।
বিমান চলাচল খাতে বিশৃঙ্খলা
সিনেট ও হাউসের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে সপ্তাহের শুরুতেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়। মাসব্যাপী আলোচনার পর গৃহীত এই পদক্ষেপ বিমান সংস্থাগুলোর জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সরকার পুনরায় চালু হলেও বিমান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন লাগবে।
অচলাবস্থার প্রভাবে ইতিমধ্যে এক হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কিছু বিমানবন্দর, বিশেষত আটলান্টা, নিউইয়র্ক, শিকাগো ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো ব্যস্ত টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে মঙ্গলবার থেকে বিলম্বের হার কমে এসেছে—মাত্র ১ শতাংশ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে বলে পরিবহন বিভাগ (DOT) জানিয়েছে।
পরিবহন সচিব শন ডাফি বলেছেন, “এফএএ নিরাপত্তা দল এখন আত্মবিশ্বাসী যে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ (ATC) কর্মীদের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এই কারণে তারা ৬ শতাংশ ফ্লাইট কর্তনের সীমা স্থগিত রাখতে রাজি হয়েছে। যদি বর্তমান নিয়োগের ধারা অব্যাহত থাকে, তবে খুব শিগগিরই আমরা স্বাভাবিক সময়সূচিতে ফিরব।”
কর্মীদের বেতন ও ট্রাম্পের অবস্থান
অচলাবস্থার পুরো সময় জুড়ে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী বিনা বেতনে কাজ করেছেন—বিশেষ করে এফএএ ও নিরাপত্তা বিভাগে কর্মরতরা। তারা ‘জরুরি কর্মী’ হিসেবে কাজ চালিয়ে গেলেও তাদের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প সম্প্রতি তাদের উদ্দেশে বলেন, যারা শাটডাউনের সময় কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তারা শিগগিরই বেতনসহ বিশেষ বোনাস পাবেন। তবে যারা কাজে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের বিষয়ে তিনি কঠোর মনোভাব দেখিয়েছেন। এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “যারা দায়িত্ব পালন করেনি, তাদের প্রতি আমি সন্তুষ্ট নই। অন্যদিকে, যারা কোনো অভিযোগ না করে কাজ চালিয়ে গেছে, তাদের আমি পুরস্কৃত করতে চাই।”
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাদের কঠিন সময় পার হতে সাহায্য করেছে। তারা তাদের দায়িত্বের চেয়ে বেশি কাজ করেছে।” তবে বোনাসের অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি কৌতুক করে বলেন, “আমি কোথাও থেকে সেটা জোগাড় করব।”
ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় ফেরা
সরকারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় বিমানবন্দরগুলোতে স্বস্তির বাতাস বইছে। নিরাপত্তা চেক, কন্ট্রোল টাওয়ার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভিসা সেবা সবই ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে। ফ্লাইট অপারেটররা বলছেন, যদি কোনো অপ্রত্যাশিত প্রশাসনিক জটিলতা না ঘটে, তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে দেশজুড়ে আকাশপথে ভ্রমণ আবারও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
তবে এই ৪৩ দিনের অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শাটডাউন শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, প্রশাসনিক আস্থা ও সাধারণ মানুষের জীবনে এক স্থায়ী ছাপ ফেলেছে।
দেশের ইতিহাসে এটি মার্কিন সরকারের দীর্ঘতম অচলাবস্থা হিসেবে রেকর্ড হয়ে থাকবে—যা শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ঐকমত্য এবং জনমতের চাপেই সমাপ্ত হলো।
সূত্র: সিম্পল ফ্লাইং, এনবিসি নিউজ, রয়টার্স, ফক্স নিউজ



