
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রাজশাহীর তানোর উপজেলায় পরিত্যক্ত একটি গভীর নলকূপে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু স্বাধীনকে উদ্ধারের জন্য চলমান অভিযান ১৭ ঘণ্টা পার করেও সফল হয়নি। ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাতভর চেষ্টা চালালেও শিশুটিকে এখনো বের করে আনা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উদ্ধারকারীরা নতুন কৌশলে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুরু করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে। পরিবারের সদস্যরা জানায়, বাড়ির পাশে থাকা বহুদিনের পরিত্যক্ত নলকূপটির মুখ ঘাস দিয়ে ঢাকা ছিল। খেলতে খেলতে স্বাধীন হঠাৎই ওই গর্তে পড়ে যায়। শিশুটি পড়ে যাওয়ার পরই পরিবার ও আশপাশের লোকজন বিষয়টি বুঝতে পারে এবং দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।
সংবাদ পেয়ে তানোর ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। শুরুতে একটি স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু হলেও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়লে পরে আরও দুটি স্কেভেটর আনা হয়। একপর্যায়ে তানোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং রাজশাহী সদর—তিনটি ইউনিট একসঙ্গে অভিযান পরিচালনা শুরু করে।
রাতভর মাটি কাটার পর বৃহস্পতিবার ভোরে প্রায় ৩০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত নতুন একটি খোলা গর্ত তৈরি করা হয়। লক্ষ্য ছিল নলকূপের নিচের অংশের সমান্তরালে পৌঁছে সেখানে横ভাবে একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করা। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সকাল থেকেই উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গ খোঁড়া শুরু করেছেন।
বুধবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ক্যামেরা ঢুকিয়ে শিশুটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ওপর থেকে পড়া মাটি ও অন্যান্য উপকরণের কারণে ভেতরের দৃশ্য দেখা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার শুরুতে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনা যাওয়ায় উদ্ধারকর্মীরা আশা হারাতে চাননি। তারা সতর্কতার সঙ্গে প্রতিটি ধাপ এগিয়ে নিচ্ছেন, যাতে শিশুটি কোনো বাড়তি ঝুঁকিতে না পড়ে।
উদ্ধার কাজ দেখতে সকাল থেকেই শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যারিকেড তৈরি করেন এবং বারবার দর্শনার্থীদের দূরে থাকার অনুরোধ করেন। ভিড়ের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে কয়েক দফা মানুষ সরিয়ে দেওয়া হয়।
ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম বলেন, “আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে কাজ করছি। গর্ত খোঁড়া শেষ হয়েছে, এখন সুড়ঙ্গ বানানো হচ্ছে। শিশুটি কোথায় আছে সেটি নিশ্চিত হওয়া এবং সেখানে নিরাপদভাবে পৌঁছানোই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সময় লাগলেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
স্থানীয় প্রশাসন পর্যবেক্ষণে রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও বিশেষায়িত দল পাঠানোর সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। শিশুটির পরিবার দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়লেও তারা আশা ছাড়ছেন না। প্রতিবেশী ও স্বজনরাও উদ্ধারস্থলেই অবস্থান করছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পরিত্যক্ত নলকূপগুলো নিয়মিত নজরদারির আওতায় না থাকলে এমন দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের দাবি।
উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। শিশুটিকে জীবিত বের করে আনার জন্য পুরো এলাকা এখন এক ধরনের অপেক্ষারত উদ্বেগে থমকে আছে।



