
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ঘুরতে গেলে কুয়াকাটা, সোনারচর বা চরমোন্তাজের নামই আগে আসে। কিন্তু প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্য আর ভিন্ন অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে যেতে হবে পটুয়াখালীর হেয়ার আইল্যান্ডে। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত চর হেয়ার বা কলাগাছিয়া চর নামে। এখানে নেই জনবসতি, নেই হোটেল-রেস্তোরাঁর কোলাহল—পুরো দ্বীপটিই যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত ছবি।
কেন যাবেন হেয়ার আইল্যান্ডে?
- নির্জন পরিবেশ: কোনো স্থায়ী মানুষ নেই, তাই ভিড় এড়িয়ে প্রকৃতির আসল রূপ দেখার সুযোগ।
- প্রকৃতির খেলাঘর: সাদা বালুর সৈকত, ঝাউবন, লাল কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ, আর অতিথি পাখির ঝাঁক।
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: একসঙ্গে দুই রকম দৃশ্যের স্বাদ পাওয়া যায়, যা অন্য কোথাও এতটা স্পষ্ট নয়।
- অতিথি প্রাণী: ভাগ্য ভালো থাকলে বন্য হরিণও চোখে পড়তে পারে।
কিভাবে যাবেন?
- ঢাকা থেকে: লঞ্চে চরমোন্তাজ পৌঁছে তারপর ট্রলার/নৌকা ভাড়া করে যাওয়া যায়।
- কুয়াকাটা থেকে: স্পিডবোট বা ট্রলারে সরাসরি যাওয়া সম্ভব। পথে চরতাপসি আর সোনারচরের দৃশ্য মিলবে বোনাস হিসেবে।
থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা
হেয়ার আইল্যান্ডে কোনো হোটেল বা রিসোর্ট নেই। সাধারণত দিনভর ঘুরে ফিরে আসাই ভালো। তবে রাত কাটাতে চাইলে ক্যাম্পিংয়ের ব্যবস্থা আছে। স্থানীয় ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাঁবু আর খাবারের প্যাকেজ দেয়।
- তাঁবু ভাড়া: প্রায় ৪০০ টাকা
- ২ দিনের প্যাকেজ (খাবারসহ): জনপ্রতি প্রায় ৩,৫০০ টাকা
নিজস্ব খাবার, পানি, ওষুধ, চার্জার বা পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখা জরুরি।
ভ্রমণ টিপস
- যাত্রার আগে জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন।
- ক্যাম্পিং করলে স্থানীয়দের অনুমতি নিন।
- দ্বীপে প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে আসবেন না।
- ভ্রমণ নিরাপত্তার জন্য গ্রুপে যাওয়া ভালো।
হেয়ার আইল্যান্ড এখনো বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হয়নি। এটাই এর সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য—নিঃশব্দ প্রকৃতি, ঝাউবনের ছায়া আর সমুদ্রের ঢেউ আপনাকে এক ভিন্ন অনুভূতি দেবে। প্রকৃতিকে ভালোবাসেন, শান্তিতে সময় কাটাতে চান—তাহলে এই দ্বীপ অবশ্যই আপনার তালিকায় থাকা উচিত।
এখন আপনার পালা—ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন, খুঁজে নিন পটুয়াখালীর হেয়ার আইল্যান্ডের লুকানো স্বর্গ।



