
নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : চাঁদ দেখা না যাওয়ায় সৌদি আরবে এবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে শুক্রবার। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, বুধবার রাতে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দিয়েছে। রমজান মাসের ৩০টি রোজা পূর্ণ করে বৃহস্পতিবার শেষ রোজা রাখবেন সৌদি নাগরিকরা এবং শুক্রবার সকালে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এদিকে বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বৈঠকে বসবে। সারাদেশ থেকে চাঁদ দেখার খবর পর্যালোচনা করে তারা ঈদের তারিখ চূড়ান্ত করবে। তবে চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লার কিছু অংশ, সিলেটের জকিগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা, বরিশালের কয়েকটি এলাকা এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগড়া উপজেলাসহ দেশের অনেক স্থানের মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবারেই ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন বলে স্থানীয় মসজিদ কমিটি ও চাঁদ দেখা কমিটিগুলো ঘোষণা দিয়েছে।
এ বছর বাংলাদেশে রমজান শুরু হয়েছে ১৯ মার্চ। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা গেলে দেশে ২৯ রোজা পূর্ণ হয়ে শুক্রবার ঈদ হবে। আর যদি চাঁদ না দেখা যায় তাহলে ৩০ রোজা পূর্ণ করে ঈদ হবে শনিবার। কিন্তু সৌদি আরবের সঙ্গে একদিনের ব্যবধানে রোজা শুরু হওয়ায় দেশের কয়েকটি জেলায় অনেক মুসল্লি সৌদি আরবের চাঁদ দেখাকে অনুসরণ করে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করেছেন। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ, মতলব ও শাহরাস্তি উপজেলার বেশ কয়েকটি মসজিদ কমিটি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে, তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবে। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি ও সেনবাগ এলাকার অধিবাসীরাও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।ফেনী জেলার পরশুরাম ও দাগনভূঞা উপজেলায় স্থানীয় আলেমরা বলেছেন, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের জন্য রমজানের সমাপ্তি সৌদি আরবের সঙ্গে মিলিয়ে উদযাপন করা উচিত।
কুমিল্লা জেলার লালমাই ও দেবিদ্বার উপজেলার কয়েকটি গ্রামে বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা প্রতি বছর সৌদি চাঁদ দেখা অনুসরণ করে ঈদ পালন করেন। সিলেটের জকিগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে এই প্রবণতা বেশি। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও উজিরপুর এলাকায়ও স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটি সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবার ঈদের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগড়া উপজেলার মুসল্লিরা বলছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ পালন করলে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে উদযাপন করতে পারেন, বিশেষ করে যারা সৌদি প্রবাসী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা সহজ হয়।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। সাধারণত সৌদি আরবের একদিন পর বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায়। এ বছরও রোজা শুরু হয়েছে সৌদির একদিন পর। তাই অনেক এলাকায় মানুষ সৌদি কর্তৃপক্ষের ঘোষণাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন। তবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তই দেশের বেশিরভাগ মানুষের জন্য চূড়ান্ত। চাঁদপুরের স্থানীয় একজন আলেম জানান, “সৌদি আরব পবিত্র মক্কা-মদিনার দেশ। তাদের চাঁদ দেখা অনুসরণ করলে ধর্মীয়ভাবে কোনো সমস্যা হয় না।” অনুরূপভাবে নোয়াখালীর এক মসজিদ ইমাম বলেন, “আমরা প্রতি বছর সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ করি। এতে পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকতে পারে।”
রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন মুসলমানরা। সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি লাভের আশায় নির্দিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকেন তারা। এবারের রমজানে অনেকেই প্রচণ্ড গরম সত্ত্বেও রোজা রেখেছেন। এখন ঈদের আনন্দে সবাই অপেক্ষা করছেন। চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনীসহ যেসব এলাকায় শুক্রবার ঈদ হবে, সেখানে ইতোমধ্যে বাজারে কেনাকাটা শুরু হয়েছে। নতুন জামা-কাপড়, মিষ্টি ও ঈদের উপহার কিনতে ভিড় জমছে। অন্যদিকে যেসব এলাকায় এখনো জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন, সেখানে উৎসবের প্রস্তুতি দুই দিন পর্যন্ত ঝুলে আছে।
সার্বিকভাবে এবারের ঈদ নিয়ে দেশজুড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। সৌদি আরবের ঘোষণার পর চাঁদপুরসহ উল্লেখিত এলাকাগুলোতে ঈদের নামাজের জন্য মসজিদ ও ঈদগাহ প্রস্তুত করা হচ্ছে। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে শুক্রবারের জন্য ছুটির পরিকল্পনা করেছেন। তবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চূড়ান্ত ঘোষণার পর সারাদেশের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। মুসলমানদের এই বড় উৎসব যেন সবার জন্য শান্তি ও আনন্দের হয়, সে প্রার্থনা করছেন সবাই। ঈদের দিনে দান-সদকা, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে মিলন এবং আনন্দ-উৎসবের মধ্য দিয়ে রমজানের সমাপ্তি ঘটবে।
প্রতিবেদক : মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ



