
ছবি: পর্যটন সংবাদ
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ ও সংলগ্ন বাগেরহাট জাদুঘরে দর্শনার্থীদের ভোগান্তি কমাতে চালু করা হয়েছে আধুনিক ই-টিকিটিং ব্যবস্থা। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে এখন অনলাইনে টিকিট কেটে কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে সরাসরি প্রবেশ করতে পারবেন দর্শনার্থীরা। এতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সময় নষ্ট করার ঝামেলা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (a2i) যৌথভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে ই-টিকিটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে কাটা টিকিটের কিউআর কোড স্ক্যান করে প্রবেশের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রদর্শন করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা শুধু দর্শনার্থীদের জন্য সুবিধাজনক নয়, একই সঙ্গে সরকারি রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। ডিজিটাল টিকিটের মাধ্যমে টিকিট বিক্রির তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হবে, ফলে আয় হিসাবেও থাকবে নির্ভুলতা।
তবে ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনায় রেখে ষাটগম্বুজ মসজিদের মূল নামাজের অংশকে ই-টিকিটের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় হয় এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আগের মতোই বিনা টিকিটে সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন। কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক দর্শনার্থী অংশেই ই-টিকিট প্রযোজ্য হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে রাজধানীর লালবাগ কেল্লায় পরীক্ষামূলকভাবে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। সেখানে অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী এই সেবা ব্যবহার করেছেন এবং উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশের আরও ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনায় ধাপে ধাপে ই-টিকিটিং চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অন্তত আরও ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এই প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে।
পঞ্চদশ শতকে খান জাহান আলীর নির্মিত ষাটগম্বুজ মসজিদ বাংলার সুলতানি আমলের এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শন। অসংখ্য গম্বুজ ও ইটের নান্দনিক কারুকাজের কারণে এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এই মসজিদকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, যা বাগেরহাটের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আন্তর্জাতিকভাবে আরও দৃঢ় করেছে।
নতুন ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা দর্শনে প্রযুক্তির ছোঁয়া যোগ হলো, যা পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



