
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার হৃদয়ে পাহাড়বেষ্টিত মনোমুগ্ধকর শহর ক্যান্ডি, যা দেশটির দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবেও পরিচিত। এই শহর শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের কারণে সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে অন্যতম গন্তব্য।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
ক্যান্ডি ছিল শ্রীলঙ্কার শেষ রাজ্যের রাজধানী, যা ১৫শ শতক থেকে ১৮১৫ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এখানেই অবস্থিত বিশ্বখ্যাত শ্রী দালাদা মালিগাওয়া (Temple of the Tooth Relic), যেখানে গৌতম বুদ্ধের দাঁতের অবশিষ্টাংশ সংরক্ষিত আছে। প্রতিবছর এসালা পেরাহেরা নামক বর্ণাঢ্য উৎসব বিশ্বজুড়ে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এবং পর্যটকদের টেনে আনে।
শহর জুড়ে রয়েছে ঔপনিবেশিক স্থাপত্য, প্রাচীন মন্দির, ক্যান্ডি লেক এবং বোটানিক্যাল গার্ডেন। প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক মিশ্রণে ক্যান্ডি যেন জীবন্ত জাদুঘর।
ভ্রমণ খরচ (আনুমানিক)
- ঢাকা থেকে কলম্বো বিমান ভাড়া: ৩০-৩৫ হাজার টাকা (রিটার্ন, মৌসুমভেদে পরিবর্তিত হতে পারে)
- কলম্বো থেকে ক্যান্ডি ট্রেন ভাড়া: সাধারণ সিট ২০০-৩০০ টাকা, ফার্স্ট ক্লাস ৫০০-৭০০ টাকা
- হোটেল খরচ: বাজেট হোটেল ২০০০-৩০০০ টাকা প্রতি রাত, মাঝারি মান ৫০০০-৭০০০ টাকা, লাক্সারি রিসোর্ট ১০-১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত
- খাবার খরচ: জনপ্রতি দৈনিক ৮০০-১৫০০ টাকা
- এন্ট্রি ফি: টেম্পল অব দ্য টুথ – প্রায় ১৫০০ টাকা, বোটানিক্যাল গার্ডেন – ১০০০ টাকা
- স্থানীয় পরিবহন (টুকটুক/ট্যাক্সি): প্রতি কিলোমিটার গড়ে ৫০-৭০ টাকা
মোটামুটি একজন পর্যটক দিনে ৫-৭ হাজার টাকার মধ্যে ক্যান্ডি ঘুরে দেখতে পারবেন (হোটেল ছাড়া)।
ভ্রমণে সতর্কতা
- টেম্পল অব দ্য টুথ পরিদর্শনের সময় শালীন পোশাক পরিধান বাধ্যতামূলক।
- স্থানীয় বাজার বা রাস্তায় জিনিস কেনার সময় দর কষাকষি করতে ভুলবেন না।
- ট্রেন টিকিট আগে থেকে বুক করা ভালো, কারণ ক্যান্ডি রুটটি সবচেয়ে জনপ্রিয়।
- বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে, তাই ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখুন।
- রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় সতর্ক থাকুন, অনেক সময় ভিনদেশী পর্যটকের পেটের সমস্যা হতে পারে।
কেন ক্যান্ডি ভ্রমণ করবেন
যারা বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস, পাহাড়ি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঐতিহ্যবাহী উৎসব কাছ থেকে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য ক্যান্ডি হতে পারে অনন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।



