১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে মানব পাচার বাড়ছে, পর্যটন সম্ভাবনার ওপর নতুন হুমকি

ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পর্যটনের জন্য জনপ্রিয় কক্সবাজার এখন মানব পাচারের ঘাঁটিতে রূপ নিচ্ছে—যা শুধু মানবিক সংকটই নয়, পর্যটন শিল্পের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উখিয়া ও টেকনাফ অঞ্চলে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে এই অপরাধচক্রের তৎপরতা।

গোয়েন্দা তথ্য বলছে, এসব চক্রের সঙ্গে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের সক্রিয় যোগসাজশ রয়েছে। তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং স্থানীয় এলাকা থেকে শিশু, নারী ও পুরুষদের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের ফাঁদে ফেলছে। অনেককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করছে চক্রটি, আবার কাউকে বিদেশে চাকরির আশ্বাসে জিম্মি করে জোরপূর্বক শ্রম কিংবা যৌন শোষণের মতো নিষ্ঠুর পরিস্থিতিতে ঠেলে দিচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ‘অ্যান্টি-ট্র্যাফিকিং ওয়ার্কিং গ্রুপ’ ৮৬টি মানব পাচারের ঘটনার তদন্ত করেছে, যার বেশিরভাগই রোহিঙ্গা জনগণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সহায়তা কমে যাওয়া, খাদ্যসংকট ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কা পাচারকারীদের সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।

আইওএমের সহায়তায় ২০১৮ সাল থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ ও মহেশখালীতে মানব পাচার প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রকল্প চলমান থাকলেও পাচারের হার কমছে না। বরং স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ১,৪০৪ জন পাচারের শিকার হয়েছেন।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র ২০২৩ সালেই সমুদ্রপথে পাচারকালে ৬৫৭ জনের বেশি রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছেন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাইফউদ্দিন শাহীন জানিয়েছেন, জেলার ২১টি পয়েন্টকে মানব পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই চক্রকে প্রতিরোধে ডেটাবেজ তৈরির পাশাপাশি ড্রোন নজরদারির কথাও ভাবা হচ্ছে।

২০২৩ সালে সারা দেশে মানব পাচারের ১৩৭টি মামলা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশই কক্সবাজারে। শুধু নারী নয়, পাচারের শিকারদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই পুরুষ, যা পাচারকারীদের কৌশলে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

মানব পাচারের এই অশনিসংকেত কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। পর্যটনবান্ধব পরিবেশ, নিরাপত্তা ও মানবিক মর্যাদা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের এই জনপদ পর্যটনের পাশাপাশি মানবিক সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।

রিপোর্ট: পর্যটন সংবাদ প্রতিনিধি, কক্সবাজার

Read Previous

ঈদের পরও রেমিট্যান্সে রেকর্ড ধারা, ইতিহাসে প্রথমবার ২৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

Read Next

শ্রীলঙ্কার গল: উপনিবেশিক ইতিহাস ও সমুদ্র সৌন্দর্যের মুগ্ধকর মিলন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular