শাহজালাল বিমানবন্দরে গুরুতর অবহেলা: নোজ হুইল ভেঙে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট বাতিল, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ছবি : সংগৃহীত

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া একটি গুরুতর দুর্ঘটনা আবারও সামনে এনে দিল গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং–এর দুর্বলতা। দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI 238–এর নোজ হুইল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় ১২৬ জন যাত্রীর যাত্রা থেমে গেছে, আর দেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দরটির নিরাপত্তা মান নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে। যাত্রীরা তখন বিমানে বসে আছেন, দরজাও বন্ধ। ট্যাক্সির প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট ডিভিশনের একজন পুশকার্ট অপারেটর বিমানটির নোজ হুইল অ্যালাইন না করেই শক্তভাবে চাপ দেন। অতিরিক্ত বলের ধাক্কায় সামনের চাকাটি ভেঙে যায়, আর মুহূর্তেই বোঝা যায়, বিমানটি আর উড়বে না।

কেবিন ক্রুরা যাত্রীদের নামিয়ে আনেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাদের হোটেলে পাঠানো হয়। পরদিন রবিবার সকালে কিছু যাত্রীকে মুম্বাই হয়ে দিল্লির পথে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এয়ারবাস A320 বিমানটি বর্তমানে বিমানবন্দরের বি–এরিয়ায় রাখা আছে। নোজ হুইল মেরামতে যথেষ্ট সময় লাগবে বলে ধারণা প্রকৌশলীদের।

প্রত্যক্ষদর্শীরা সোজাসাপ্টা বলেছেন, এটি মূলত দুর্বল হ্যান্ডলিং অনুশীলনের ফল। তাদের মতে টিউবিং অ্যালাইনমেন্ট ঠিক ছিল না, আর সেই অবস্থায় ঠেলাগাড়ি ব্যবহার করা সম্পূর্ণই দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।

দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা মান নিয়ে যে প্রশ্ন আগে থেকেই ছিল, এই ঘটনা তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, নিয়মিত ড্রিল, আর আধুনিক স্ট্যান্ডার্ড মেনে কাজ করানো এখন আর বিকল্প নয়। বড় বিমানের নিরাপত্তা–সংক্রান্ত কাজে সামান্য ভুলও বিপদ ডেকে আনে—যার ভুক্তভোগী হয় যাত্রী এবং এয়ারলাইন দুই পক্ষই।

জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. সফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, দায়িত্বে থাকা ড্রাইভারকে ইতিমধ্যেই কাজ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার তাকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

এয়ার ইন্ডিয়া ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের জন্য গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সাথে সাথে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়; সময়, রক্ষণাবেক্ষণ, সেফটি চেক—সব মিলিয়ে একটি পুরো অপারেশনই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দিনে হাজার হাজার যাত্রী ওঠানামা করেন। এমন জায়গায় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের প্রতিটি ধাপে নিখুঁততা নিশ্চিত করা জরুরি। যন্ত্রপাতি ব্যবহার, অপারেটরদের দক্ষতা, টিম ওয়ার্ক—সব কিছুতেই কঠোর মনোযোগ না দিলে একই ধরনের দুর্ঘটনা আবারও ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়।

এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ বা নতুন বিমান যুক্ত করলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। মানবিক ভুলের সম্ভাবনা যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ সঠিক প্রশিক্ষণ, তদারকি আর দায়িত্ববোধ ছাড়া নিরাপত্তা আসলে অসম্পূর্ণই রয়ে যাবে।

Read Previous

রিজভীর অভিযোগ— “মানুষের জীবনযাপন ভাঙা, সরকার ব্যস্ত বিদেশি চুক্তিতে”

Read Next

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ ভিসা গাইড

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular