
উসমান হাদী, ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : ঢাউসমানকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণার মাঝেই তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার সময় ছিল ঠিক ২টা ৩৫ মিনিট। আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে পুরো রাজনৈতিক অঙ্গনে টানটান উত্তেজনা।
হাদির কাছের সহযোগীরা বলছেন, ঘটনাটা ঘটেছে যেন খুব হিসেব করেই। জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ইস্রাফিল ফরায়েজী জানিয়েছেন, হাদি প্রচারণায় বেরিয়েছিলেন সাধারণ কর্মীদের সাথে। খুব সাধারণ রুটেই যাচ্ছিলেন। হঠাৎই গুলির শব্দ শোনা যায়, এরপর দেখা যায় হাদি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। ফরায়েজীর ভাষায়, “এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাকে টার্গেট করেই হামলা করা হয়েছে।”

পুলিশ অবশ্য এখনো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, প্রথমে তারা ঘটনাটি ‘শুনেছেন’, কিন্তু পুরোপুরি নিশ্চিত হতে মাঠে টিম পাঠানো হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঠিক কোন এলাকায় এবং কীভাবে হামলাটি ঘটেছে, তা এখনো যাচাই চলছে। তদন্ত টিমের রিপোর্ট পাওয়ার পরই পুলিশ আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে।
হাদিকে নিয়ে এ ধরনের আশঙ্কা কিন্তু নতুন নয়। গত নভেম্বরেই তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, দেশি-বিদেশি ৩০টিরও বেশি নম্বর থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুধু ব্যক্তিগত জীবনই নয়, তার পরিবার—মা, বোন, স্ত্রী—সবার বিরুদ্ধে ভয়াবহ হুমকি এসেছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। সেই সময়ের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিদেশি নম্বর থেকে একের পর এক হুমকি এসেছে। তার ভাষায়, তাকে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে, বাড়িতে আগুন দেওয়ার পরিকল্পনা আছে, আর তার পরিবারকে কেন্দ্র করে অকথ্য হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সেই পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। হাদি বারবার জানিয়েছিলেন, তিনি ঝুঁকির মধ্যে আছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো নির্বাচনের সময় উত্তেজনা থাকে বটে, কিন্তু একজন প্রার্থী বারবার প্রাণনাশের আশঙ্কা জানালে এবং পরে সত্যিই হামলার শিকার হলে তা অত্যন্ত গুরুতর বার্তা বহন করে।
শরিফ ওসমান হাদি মূলধারার রাজনীতির তুলনায় ভিন্ন অবস্থান থেকে উঠে আসা একজন প্রার্থী। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বেশ সরব ছিলেন দুর্নীতি, রাষ্ট্রযন্ত্রের অপব্যবহার, জনগণের অধিকার এবং রাজনৈতিক স্বচ্ছতার মতো ইস্যুতে। এই সরব অবস্থানই তাকে কিছু মহলের টার্গেটে ফেলেছে কি না—সে প্রশ্ন এখন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।
হামলার পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থীকে গুলি করা রাজনৈতিক অঙ্গনের ভয়ংকর সংকেত। কেউ আবার মন্তব্য করছেন, নিরাপত্তা নিয়ে দেশব্যাপী যেসব উদ্বেগ রয়েছে, এই ঘটনা তা আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরল।
ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসকরা আপাতত তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন, তবে আরও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন আছে। তার দল এবং স্বজনরা বলছেন, তারা এখন চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত, তবে পুরো ঘটনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন শিগগিরই।
যাই হোক, একটা বিষয় পরিষ্কার—এই হামলা শুধু একজন প্রার্থীর ওপর আঘাত নয়। এটি নির্বাচনী পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সহিংসতার পুরোনো প্রশ্নগুলো আবার সামনে টেনে আনল। তদন্ত এগোলে জানা যাবে কারা, কী উদ্দেশ্যে এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিল। কিন্তু আপাতত পুরো রাজনৈতিক মাঠে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—শরিফ ওসমান হাদি কি আগেই যা বলছিলেন, সেটাই আজ নির্মমভাবে সত্যি হয়ে গেল?



