
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: মালয়েশিয়ার লাংকাওয়ি দ্বীপকে বলা হয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্বর্গ। আর এই দ্বীপের সবচেয়ে প্রতীকী দর্শনীয় স্থান হলো ঈগল স্কয়ার বা স্থানীয় নাম দাতারান লাং (Dataran Lang)। লাংকাওয়ির নামের সঙ্গেও এই ঈগলের সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। “Lang” এসেছে “Helang” থেকে, যার অর্থ ঈগল। তাই দ্বীপে প্রবেশ করা মাত্রই পর্যটকদের সামনে স্বাগত জানায় বিশাল এক ব্রাউন ঈগলের মূর্তি।
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
ঈগল স্কয়ার লাংকাওয়ির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে ১৯৯৬ সালে তৈরি করা হয়। ১২ মিটার উঁচু ঈগলের ভাস্কর্যটি দ্বীপের নাম ও পরিচয়ের ধারক। স্থানীয় কাহিনী ও লোকসংস্কৃতিতে ঈগল শক্তি, স্বাধীনতা ও সাহসের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। ফলে ভাস্কর্যটি শুধু একটি সৌন্দর্যের নিদর্শন নয়, বরং লাংকাওয়ির ঐতিহ্য ও গৌরবের প্রতিচ্ছবি।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ
ঈগল স্কয়ার সমুদ্রের ধারে অবস্থিত একটি খোলা চত্বর। চারপাশে রয়েছে নীল জলরাশি, ছোট দ্বীপ, সবুজ পাহাড় ও বাগান। দিনমান পর্যটকদের ভিড় থাকলেও বিকেলের পর থেকে জায়গাটি বিশেষভাবে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সূর্যাস্তের সময় সমুদ্রের পটভূমিতে ঈগলের মূর্তি যেন আরো জীবন্ত হয়ে ওঠে। রাতে আলোকসজ্জায় পুরো এলাকা রূপকথার মতো লাগে।
যাতায়াত ব্যবস্থা
- আকাশপথে: কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি লাংকাওয়ি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Langkawi International Airport) পর্যন্ত ফ্লাইট পাওয়া যায়।
- পানিপথে: কেদাহ বা পেনাং থেকে ফেরিতে আসা যায়।
- বিমানবন্দর বা ফেরি টার্মিনাল থেকে ট্যাক্সি, গ্র্যাব (Grab অ্যাপ), বা ভাড়া করা গাড়িতে সহজেই ঈগল স্কয়ারে পৌঁছানো যায়। স্কয়ারটি লাংকাওয়ি শহর কুয়াহ টাউনের কেন্দ্রেই অবস্থিত।
খরচ
ঈগল স্কয়ারে প্রবেশ পুরোপুরি ফ্রি। কোনো টিকেটের প্রয়োজন নেই। খরচ মূলত যাতায়াত, খাবার ও সুভেনির কেনার জন্য হবে। কাছাকাছি হোটেলগুলোতেও বিভিন্ন বাজেটে থাকার সুযোগ রয়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য টিপস
- সকাল বা বিকেল সময় ঘোরার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
- ছবি তোলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা আছে, তবে ভিড় বেশি হলে একটু সময় নিয়ে ভালো ফ্রেম পাওয়া যায়।
- আশপাশে রেস্টুরেন্ট ও শপিং কমপ্লেক্স থাকায় খাওয়াদাওয়া ও কেনাকাটার সুবিধা আছে।
- রাতে লাইটিং উপভোগ করতে চাইলে সূর্যাস্তের পর আসা ভালো।
কেন ঘুরতে যাবেন
ঈগল স্কয়ার শুধু লাংকাওয়ির প্রতীক নয়, এটি এমন এক জায়গা যেখানে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও প্রকৃতি মিলেমিশে একাকার হয়েছে। এখানে এসে একদিকে যেমন দ্বীপের পরিচয় পাওয়া যায়, অন্যদিকে সমুদ্রের বাতাস ও খোলা আকাশে দাঁড়িয়ে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা তৈরি হয়।
এক কথায়, লাংকাওয়ি ভ্রমণে ঈগল স্কয়ার না গেলে আপনার যাত্রা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।



