১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় জেগে ওঠা ৩ চরে পর্যটনের সম্ভাবনা 

লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলার চর রমণীমোহন ইউনিয়নের মেঘনার নদী সংলগ্ন নতুন করে জেগে ওঠা চর মেঘা ও কমলনগর উপজেলার কালকিনি ইউনিয়নের চর কাকড়া, চর শামছুদ্দিনে রয়েছে পর্যটনের সম্ভাবনা। প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে ম্যানগ্রোভ বনায়ন অথবা ঝাউ বাগান করলে পর্যটনের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠবে নতুন এই তিন চর।

বনায়নের ফলে একদিকে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে ভূমি ক্ষয়রোধ হবে এবং উপকূলীয় এলাকার মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দূর্যোগের কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে। পাশাপাশি ঢাকা, ভোলা, বরিশাল, চট্টগ্রামসহ দেশের দক্ষিণ—পশ্চিমাঞ্চলে চলাচলকারী মানুষেরা পর্যটক হিসেবে ঘুরতে যাবে চরগুলোতে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, সাগর ও নদীতে জেগে ওঠা নতুন চরগুলো বন্দোবস্ত দেওয়া যাবে না। ফলে এ চরগুলো একমাত্র বনায়নের জন্য উপযোগী বলে স্থানীয়রা মনে করে। লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের আন্তরিকতা থাকলে এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

সরেজমিন এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, রামগতি, কমলনগর উপজেলা ও সদর উপজেলার চর রমণীমোহন ইউনিয়ন মেঘনা নদী সংলগ্ন। ইতোমধ্যে মেঘনার অব্যাহত ভাঙনে কমলনগর ও রামগতি উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা নদীতে তলিয়ে গেছে। এরই মধ্যে জেগে উঠছে নতুন চরগুলো।

নতুন করে জেগে ওঠা তিনটি চরের আয়তন প্রায় ১২ হাজার একর। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, দেশের প্রাণ—প্রাচুর্যের বৈচিত্র্য রক্ষা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের বড় উৎস হতে পারে এসব নতুন চর। তাই এসব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন জেলায় জেগে ওঠা চরে কার্যকর উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে নোয়াখালী, হাতিয়া, ভোলা, বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলায় কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্মীপুর জেলায় এ ধরনের উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ও সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমির ক্ষয় ও ভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো পরিবেশগত বিপর্যয়ের ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠী ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে, এতে দেশের অর্থনেতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদী ও বঙ্গোপসাগরের তলদেশের উচ্চতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নতুন চরের সৃষ্টি করে। এসব চরাঞ্চলের ভূমিকে স্থায়ী করার জন্য বনায়ন কর্মসূচি জরুরি।

সূত্র আরও জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যখন বাংলাদেশের বিরাট অংশ সাগরে নিমজ্জিত হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে, ঠিক সে সময়েই বঙ্গোপসাগরে বুকে দেখা দিয়েছে আরেক বাংলাদেশের হাতছানি।

সেখানে নদীর অথৈ জলে প্রাকৃতিকভাবেই বিশাল চর জেগেছে, গড়ে উঠেছে মাইলের পর মাইল ভূখন্ড। দীর্ঘদিন ধরে শুধুই ডুবো চর হিসেবে বেশ কয়েকটি চরভূমি ইতোমধ্যে স্থায়ী ভূখন্ডে পরিণত হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের নতুন জেগে ওঠা এসব চর বিগত ৩-৪ বছর ধরে ভরা জোয়ারেও আর তলিয়ে যাচ্ছে না। বরং দিন দিন বেড়ে চলছে এর আয়তন।

Read Previous

মহাখালী সাত তলা বস্তিতে ভয়াবহ  আগুন

Read Next

এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী মারা গেছেন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular