
পর্যটন সংবাদ। নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচলের নীলা মার্কেট আজকের দিনে শুধু কেনাকাটার কেন্দ্র নয়, বরং একটি ব্যতিক্রমধর্মী ফুড জোন হিসেবেও পরিচিত। বালু নদীর তীর এবং লেকপাড় জুড়ে রাতের আকাশের নিচে গড়ে ওঠা এই খাবারের হাটকে স্থানীয়রা নাম দিয়েছেন ‘রসনার হাট’। সন্ধ্যা নামলেই এখানে জমে ওঠে এক বিশাল ভোজন মিলনমেলা, যেখানে আলোর ঝলকানি, ধোঁয়ার ঘ্রাণ এবং সুস্বাদের আমন্ত্রণ ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে।
প্রায় দুই শতাধিক খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁর মধ্যে হাঁসের মাংস ও চিতই পিঠা বিশেষভাবে জনপ্রিয়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হাঁসের মাংস মাটির চুলায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করা হয়, যা স্বাদকে আরও গভীর করে। হাওর অঞ্চল থেকে সংগ্রহ করা দেশি হাঁসের মাংস, আতপ চালের রুটি এবং নানা ধরনের বাহারি খাবার রাতভর পর্যটক ও ভোজনরসিকদের টানে।
নীলা মার্কেটে শুধু হাঁস নয়, গরু, খাসি, মুরগি, সামুদ্রিক মাছ ও কাঁকড়ার বিভিন্ন পদও পাওয়া যায়। হরেক ধরনের মিষ্টিজাতীয় খাবার—রসগোল্লা, বালিশ, ছানা, সন্দেশ, লেংচা, রসমালাই—সাথে থাকে তান্দুরি চা ও স্পেশাল মালাই চা। ভোজনের সঙ্গে আছে নৌভ্রমণ, শিশু পার্ক এবং শিশুদের খেলনার দোকান।
দরদাম: হাঁসের মাংস প্রতি প্লেট ২৫০-৩০০ টাকা, রুমালি রুটি ও চিতই পিঠা ২০ টাকা, চাপটি ১০ টাকা। সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, টুনা, স্কুইড ও অক্টোপাসের দাম ১৫০ থেকে ১,৩০০ টাকা পর্যন্ত।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাসেল মাহমুদ জানান, ২০১৩-১৪ সাল থেকে নীলা মার্কেট ভোজনরসিকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ের কারণে ক্রমেই স্থানটির খ্যাতি বাড়ছে।
যাবেন যেভাবে: ঢাকার গুলিস্তান থেকে নীলা মার্কেটের দূরত্ব ২২ কিমি। কুড়িল বিশ্বরোড হয়ে সহজে পৌঁছানো যায়, ভুলতাগামী বিআরটিসি বাস বা অটোরিকশার মাধ্যমে। বাসের টিকিট মাত্র ১০ টাকা।
রূপগঞ্জের নীলা মার্কেট শুধু খাবারের জন্য নয়, প্রকৃতির স্পর্শে রাতের আকাশের নিচে নদীর তীরের আনন্দময় পরিবেশ উপভোগের জন্যও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয়।



