
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: রাশিয়ার নতুন হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আকাশপথ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায়ও।
রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে ইউক্রেনজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পোল্যান্ড সাময়িকভাবে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। রাজধানী ওয়ারশ’র দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লুবলিন ও রেজশোভে উড়োজাহাজ চলাচল স্থগিত করা হয়। পোলিশ সেনাবাহিনী জানায়, অপ্রত্যাশিত সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শুধু পোল্যান্ড নয়, বাল্টিক সাগরেও ন্যাটোর কার্যক্রম বেড়েছে। ডেনমার্ক ও নরওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনার কাছে রহস্যজনক ড্রোন দেখা দেওয়ার পর ন্যাটো সেখানে একটি আকাশ প্রতিরক্ষা যুদ্ধজাহাজ, গোয়েন্দা ও নজরদারি প্ল্যাটফর্ম মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এটিকে তাদের অবকাঠামোর ওপর সবচেয়ে গুরুতর ‘হাইব্রিড আক্রমণ’ বলেছেন। নরওয়ের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ঘাঁটির কাছেও ড্রোন শনাক্ত হয়েছে। জার্মানির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ড্ট জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী শ্লেসভিগ-হলস্টাইনে ড্রোনের ‘ঝাঁক’ উড়তে দেখা গেছে। তিনি সেনাবাহিনীকে ড্রোন ভূপাতিত করার অনুমতি দিতে আইন সংশোধনের আহ্বান জানান।
এদিকে প্রায় ১০টি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা সীমান্ত সুরক্ষায় যৌথভাবে একটি ‘ড্রোন ওয়াল’ তৈরির পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। তবে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এসব পদক্ষেপ ইউরোপে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াবে।
ইউরোপের এই উত্তেজনা পর্যটন খাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। আকাশসীমা বন্ধ হওয়ায় ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, আর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করায় ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন বিধিনিষেধ আসতে পারে। ফলে ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আগে সর্বশেষ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা জেনে নেওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।



