
রামু রাংকুট বৌদ্ধবিহার
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : রামুর রাংকুট মহা বৌদ্ধবিহার নিয়ে সাম্প্রতিক আগ্রহ শুধু ধর্মীয় ভক্তির মধ্যে আটকে নেই। জায়গাটা এখন দেশের পর্যটনশিল্পে নতুন আলো ছড়াচ্ছে। পাহাড়, সবুজ আর স্থাপত্যশৈলীর মিশেলে বিহারটি কক্সবাজারের ভ্রমণচিত্রে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাংকুট খুব সহজেই হয়ে উঠতে পারে এই অঞ্চলের পরবর্তী বড় আকর্ষণ।
রাংকুটের পরিচয় বহু পুরোনো। স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধারণা অনুযায়ী, বিহারটির বয়স প্রায় আড়াই হাজার বছর। সম্রাট অশোকের সময়কার বনাশ্রম হিসেবে পরিচিত এ তীর্থস্থান বহু যুগ ধরে পূণ্যার্থীদের আগমনে মুখর। তবে এখন শুধু ধর্মীয় কারণে নয়, সাধারণ ভ্রমণকারীরাও স্থাপত্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খোঁজে এখানে আসছেন। পাহাড়চূড়ার নির্জন পরিবেশ আর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সাজানো নির্মাণগুলো যে কাউকে থামিয়ে দেয়।
রাজারকুল এলাকায় পাহাড়ের মাথায় দাঁড়িয়ে থাকা এই বিশাল কমপ্লেক্সে রয়েছে রাংকুট জাদুঘর, প্রজ্ঞাবংশ ফ্লাইওভার, রাংকুট মিরাকেল গার্ডেন, ইকো মেডিটেশন পার্ক এবং দেশের সবচেয়ে বড় ১৫০ ফুট উচ্চতার সিংহ শয্যা বুদ্ধ বিম্ব। পুরো স্থানটি যেন ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক স্থাপত্যের মিলনমঞ্চ।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক রবিউল হাসান বলেন, কক্সবাজার মানেই মানুষ সাধারণত সমুদ্রসৈকত ভাবেন। কিন্তু গুগলে রাংকুটের নাম দেখেই যাত্রাপথে পরিবর্তন আনেন তিনি। তাঁর মতে, পাহাড়ের মাথায় এমন শান্ত আর মনোমুগ্ধকর জায়গা পাওয়া সত্যিই বিস্ময়ের।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ মোহাম্মদুল হক জনি মনে করেন, রামুর ভৌগোলিক অবস্থানই তাকে আলাদা করে দিয়েছে। পাহাড়, সমুদ্র, থাই টেম্পলধাঁচের বৌদ্ধবিহার—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা এখানে তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগ ও যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে রামু পর্যটনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
বিহারের পরিচালক কে. শ্রী জ্যোতিসেন মহাথের জানালেন, রাংকুট শুধু দর্শনীয় নয়, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। গৌতম বুদ্ধের বক্ষাস্থির নিদর্শন থাকার কারণে থাইল্যান্ড থেকে শুরু করে শ্রীলংকা, জাপান, কোরিয়া—বহু দেশের ভক্তদের কাছে এটি সম্মানের জায়গা। সরকার উন্নয়ন পরিকল্পনা নিলে বিদেশি তীর্থযাত্রীদের আগমন বাড়বে, আর এতে স্থানীয় অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এরফানুল হক চৌধুরী সাম্প্রতিক পরিদর্শনের পর বলেছেন, রাংকুট দেশের জন্য একটি মূল্যবান ঐতিহাসিক সম্পদ। জায়গাটির নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা করবেন।
সব মিলিয়ে রাংকুট মহা বৌদ্ধবিহারকে ঘিরে সম্ভাবনার পরিধি ক্রমেই বাড়ছে। কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি এমন একটি আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক এবং নান্দনিক গন্তব্য যুক্ত হওয়ায় পর্যটন অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। যথাযথ পরিকল্পনা আর যত্ন পেলে রাংকুট দেশের পর্যটনশিল্পে সত্যিই নতুন অধ্যায় যোগ করবে।



