রাজবাড়ীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, মশার দাপটে অতিষ্ঠ নাগরিকরা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: রাজবাড়ীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি মশার উপদ্রবও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিনের বেলা তুলনামূলকভাবে মশার উৎপাত কম থাকলেও সন্ধ্যা নামলেই ঘরে-বাইরে বসবাস করা দায় হয়ে পড়ছে। ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়লেও মশক নিধনে পৌর কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

বাসিন্দারা বলছেন, আগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে নিয়মিত মশা নিধনের কাজ হতো। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে ড্রেনে কীটনাশক ছিটানো কিংবা ফগার মেশিন চালানো—কোনো কার্যক্রমই দেখা যায়নি। এতে শহরজুড়ে মশার দাপট বেড়ে গেছে।

বিনোদপুর ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুজন কুমার বিষ্ণু বলেন, তাদের এলাকায় একটি বড় ড্রেন ও অপরিষ্কার নালা রয়েছে যেখানে বাজারের পানি জমে থাকে। এ কারণে মশার বংশবিস্তার মারাত্মকভাবে বেড়েছে।

সজ্জনকান্দা টিএন্ডটি পাড়া এলাকার কুতুব উদ্দিন জানান, “এক বছর ধরে এখানে মশা মারার কোনো কার্যক্রম নেই। এতে সবাই ক্ষুব্ধ। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও বাড়বে।”

লক্ষ্মীকোলের সাহাপাড়ার বাসিন্দা তন্ময় কুমার সাহা বলেন, “আমাদের এলাকায় কখনো মশা নিধনের ওষুধ দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন কয়েল ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি ধোঁয়ার কারণে শারীরিক সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।”

ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মে মাসে ৫ জন, জুনে ৮ জন, জুলাইয়ে ৩৮ জন এবং আগস্টে ৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত পাংশায় ৫১ জন, কালুখালীতে ৯ জন, বালিয়াকান্দিতে ৫২ জন ও গোয়ালন্দে ১৪ জনসহ পুরো জেলায় মোট ১২৬ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, “এখনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সচেতন না হলে জটিলতা বাড়তে পারে। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি।”

পৌরসভার ব্যাখ্যা

রাজবাড়ী পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তায়েব আলী জানান, কাভার্ড ভ্যান ও কীটনাশকের সংকটের কারণে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে মাত্র দুটি ফগার মেশিন সচল আছে। প্রশাসনের কাছে সরঞ্জাম ও ওষুধ চাওয়া হয়েছে, যা পেলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

রাজবাড়ীর মানুষ এখন মশার যন্ত্রণায় চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তাই মশা নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ও স্থানীয়দের একসাথে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Read Previous

ফিলিস্তিনের ৩ মানবাধিকার সংস্থার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

Read Next

বিসিবি নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা: হুমকির অভিযোগে নিরাপত্তা চাইলেন সভাপতি বুলবুল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular