
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের চারিহং গ্রামে রয়েছে প্রকৃতির এক নয়নাভিরাম সৌন্দর্য—সাগরবান্ধা ঝরনা। স্থানীয়ভাবে একে চারিহং ঝরনাও বলা হয়ে থাকে। সাগরবান্ধাছড়া নামের এক পাহাড়ি ছড়ার বুকে গড়ে ওঠা এই জলপ্রপাত এবং তার আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি ঝরনা বর্ষায় হয়ে ওঠে অপূর্ব মনোমুগ্ধকর।
রাঙামাটি শহর থেকে নৌপথে যেতে হয় চারিহং গ্রামে। সুবলং ঝরনায় যাওয়ার পথে বাঁ দিকের একটি নৌপথ ধরে পৌনে এক ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যাওয়া যায় এই পাহাড়ি গ্রামে। গ্রামে পৌঁছার আগেই দূর থেকে দেখা মেলে সাগরবান্ধাছড়ার প্রথম ঝরনার, যেটির পানির ধারা কাপ্তাই হ্রদের সঙ্গে মিশে যায়।
রোমাঞ্চকর পথ, দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা
সাগরবান্ধা ঝরনায় পৌঁছাতে হয় ছড়া বেয়ে। এই পথটি কিছুটা বিপজ্জনক—পিচ্ছিল পাথর, ঢালু গিরিপথ আর জলের স্রোতের কারণে সতর্কভাবে হাঁটতে হয়। তবে পুরো পথজুড়ে বুনো প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য পর্যটকদের মোহিত করে রাখে।
বর্তমানে বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ছড়ায় পানি বেড়েছে, ফলে ঝরনাগুলোর রূপ হয়েছে আরও আকর্ষণীয়। গত শুক্রবার রাঙামাটি শহর থেকে ৩০-৪০ জনের একটি দল এই ঝরনা দেখতে যায়। দলের একজন সদস্য, দীপ্ত সেন বলেন, “সাগরবান্ধাছড়ায় গেলে একসঙ্গে অন্তত সাত-আটটি ঝরনা দেখা যায়। সাগরবান্ধা ঝরনাটি একেবারে আলাদা ও মনকাড়া। একবার গেলে আবার যেতে মন চায়।”

চারিহং গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা নিরাজ চাকমা জানান, “এখন প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন পর্যটক আসছেন। তবে অনেকেই ছড়ার চারপাশে পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলে যান, যা প্রকৃতির জন্য হুমকি।”
পর্যটন সুবিধার অভাব
বন্দুকভাঙা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গৌতম বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “সাগরবান্ধা একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য। তবে সেখানে এখনো পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা যায়নি।”
যেভাবে যাবেন
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি বাসযোগে পৌঁছাতে হবে রাঙামাটি শহরে। এরপর রাঙামাটি শহরের যে কোনো ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ভাড়া করে সুবলং রুট ধরে পৌঁছাতে হবে চারিহং গ্রামে। নৌকার ভাড়া নির্ভর করে নৌকার আকার ও দরদামের ওপর—খরচ পড়তে পারে দেড় হাজার থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত।
গ্রামটিতে খাবারের কোনো ব্যবস্থা নেই, তাই পর্যটকদের নিজ দায়িত্বে খাবার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে হবে।
কোথায় থাকবেন
রাঙামাটি শহরে রয়েছে প্রচুর আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট। এর মধ্যে পর্যটন মোটেল, হোটেল মতিমহল, হোটেল নাদিয়া, হোটেল প্রিন্স, হিল প্যালেস, হোটেল ডিগনিটি এবং হোটেল সুফিয়া উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া কাপ্তাই হ্রদসংলগ্ন রাঙাদ্বীপ রিসোর্ট, বার্গী রিসোর্টসহ অনেক কটেজে থাকা যায়। হোটেলভেদে রাত্রিকালীন ভাড়া ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে।
পর্যটনের সম্ভাবনায় উজ্জ্বল রাঙামাটির সাগরবান্ধা ঝরনা এখন আরও সজীব ও প্রাণবন্ত। প্রকৃতির সৌন্দর্য পেতে একবার ঘুরে আসতে পারেন এই মনকাড়া জলপ্রপাতপাড়ে। তবে প্রকৃতিকে ভালোবাসুন, পরিচ্ছন্ন রাখুন—এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।



