
নিজস্ব প্রতিবেদক। পর্যটন সংবাদ : রাঙামাটি জেলার আসামবস্তী থেকে কাপ্তাইমুখী এই ১৮ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা বিকল্প সড়কটি বর্তমানে পর্যটকদের কাছে এক অনন্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের গা ঘেঁষে চলে যাওয়া এই পথের একদিকে বিস্তীর্ণ কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, অন্যদিকে ঘন সবুজ অরণ্য আর উঁচু-নিচু পাহাড়ের মিতালি—প্রকৃতি যেন এখানে নিজের সবচেয়ে সুন্দর রূপটি উজাড় করে দিয়েছে।
এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলে দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার কমে যায়, যা রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই যাত্রাকে আরও সহজ ও আনন্দময় করে তুলেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০১৭ সালের পাহাড়ধসের পর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটিকে দুই লেনে উন্নীত করেছে এবং তিনটি নতুন সেতু নির্মাণ করেছে। ফলে এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্পট হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।
সড়কের বড়াদাম এলাকায় দাঁড়ালে পুরো রাঙামাটি শহরকে দ্বীপের মতো দেখায়, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে বনভান্তের স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মৃতিমন্দির বৌদ্ধ তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে উঠেছে, যেখানে প্রতিদিন ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে। পাহাড়ি নারীদের তাজা তরকারি, ফলমূলের হাটবাজার, চা-স্টল আর রেস্তোরাঁগুলো (যেমন বার্গি লেক, বড় গাঙ, বেড়ান্নে) পর্যটকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণ। পাহাড়ি খাবার থেকে দেশীয় পদ—সবই স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়।
প্যাডেল বোট ও কায়াকিংয়ের সুবিধা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে ভ্রমণের আনন্দ আরও বেড়েছে। হাউসবোটে রাতযাপনের ব্যবস্থাও রয়েছে, তবে আগাম বুকিং করা উচিত।
পর্যটকরা জানান, এই সড়ক না দেখলে রাঙামাটি ভ্রমণ অসম্পূর্ণ মনে হয়। তবে সন্ধ্যার পর সতর্কতা জরুরি—কখনো কখনো বন্য হাতির পাল নেমে আসতে পারে। নিরাপত্তা জোরদার করলে এটি রাঙামাটির অন্যতম প্রধান পর্যটন জোন হয়ে উঠতে পারে।
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে বাসে রাঙামাটি এসে অটোরিকশা/মাইক্রোবাসে সহজেই এই অপরূপ পথ উপভোগ করা যায়। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি সত্যিই এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা।
প্রতিবেদক : মুহাম্মদ শফিকুল আশরাফ



