১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রহস্যময় এডামস পিক: শ্রীলঙ্কায় সূর্যোদয়ের তীর্থযাত্রা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম দালহৌসি থেকে শুরু হয় এক বিশেষ যাত্রা—যেটি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত শ্রী পাদা, আর বিশ্বে পরিচিত এডামস পিক নামে। ২,২৪৩ মিটার উঁচু এই পাহাড় শুধু একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গাই নয়, বরং চার ধর্মের কাছে সমানভাবে পবিত্র তীর্থস্থান। চূড়ার পাথরে খোদাই করা এক “পায়চিহ্ন”কে ঘিরে গড়ে উঠেছে হাজার বছরের বিশ্বাস ও ঐতিহ্য।

যাত্রার শুরু ও সেরা সময়

সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত এই পথে ভ্রমণ সবচেয়ে আরামদায়ক। পূর্ণিমা রাতে পাহাড়ে তীর্থযাত্রীদের ঢল নামে, তখন আলোকসজ্জায় পথ ভরে ওঠে। সূর্যোদয়ের দৃশ্য ধরতে রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে ২টার মধ্যে উঠতে শুরু করাই উত্তম। গড়ে ৫,৫০০ সিঁড়ি পেরিয়ে ওপরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৩ ঘন্টা।

কীভাবে পৌঁছাবেন

কলম্বো থেকে ট্রেনে হ্যাটন যেতে লাগে প্রায় ৫ ঘন্টা। ভাড়া শ্রেণিভেদে ১,৩০০ থেকে ৬,০০০ রুপি পর্যন্ত। হ্যাটন থেকে বাসে দালহৌসি যেতে খরচ ৫০–২০০ রুপি, সময় লাগে দেড় ঘন্টার মতো। চাইলে টুকটুক বা লোকাল ট্যাক্সিতে যেতে পারেন, ভাড়া প্রায় ১,৬০০–২,১০০ রুপি। আর একটু আরাম চাইলে প্রাইভেট কার ভাড়া করে সরাসরি কলম্বো বা কান্ডি থেকে যাওয়া সম্ভব, যার খরচ গড়ে ৮৫–১১০ মার্কিন ডলার।

থাকা–খাওয়া

দালহৌসিতে নানা ধরণের গেস্টহাউস ও হোটেল আছে। বাজেট রুম পাওয়া যায় ৮,০০০ রুপির মধ্যে, জনপিছু খরচ প্রায় ৪,০০০ রুপি। মাঝারি মানের রুম নিলে প্রতি জনের খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৭,৫০০ রুপি। খাবার ও পানীয়ের খরচ গড়ে ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ রুপি। পথের ধারে ছোট দোকানগুলোতে চা, নুডলস, রুটি ও স্ন্যাকস পাওয়া যায়।

খরচপত্র (প্রতি ব্যক্তি, ১ রাত/২ দিন)

লো–বাজেট ভ্রমণ

  • ট্রেন (কলম্বো–হ্যাটন–ফেরত): ৩,০০০ রুপি
  • বাস (হ্যাটন–দালহৌসি): ১০০ রুপি
  • আবাসন: ৪,০০০ রুপি
  • খাবার: ১,৫০০ রুপি
  • দান (ঐচ্ছিক): ১,০০০ রুপি
  • মিস্‌ খরচ: ৫০০ রুপি
    মোট: প্রায় ৯,৩৫০ রুপি (প্রায় ৩,৭৮০ টাকা)

কম্ফর্ট ভ্রমণ

  • ট্রেন (কলম্বো–হ্যাটন–ফেরত): ৩,০০০ রুপি
  • টুকটুক (হ্যাটন–দালহৌসি): ১,৮০০ রুপি
  • আবাসন (মিড–রেঞ্জ): ৭,৫০০ রুপি
  • খাবার: ২,৫০০ রুপি
  • দান (ঐচ্ছিক): ১,০০০ রুপি
    মোট: প্রায় ১৫,৮০০ রুপি (প্রায় ৬,৩৮৩ টাকা)

ভিসা (ETA) ফি আলাদা—বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ২০ মার্কিন ডলার।

অভিজ্ঞতা ও প্রস্তুতি

ট্রেকের পুরো পথ সিঁড়ি দিয়ে বানানো। মৌসুমে দোকান ও আলো থাকে, কিন্তু অফ–সিজনে অন্ধকার এবং ফাঁকা—তখন অবশ্যই হেডল্যাম্প নিতে হবে। ভোরে ওপরে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে, তাই গরম কাপড় ও জুতো দরকার। হাঁটতে সময় হাঁটুতে চাপ পড়ে, তাই ব্যাগ হালকা রাখা উত্তম।

প্রস্তাবিত সূচি

  • দিন–১: কলম্বো থেকে ট্রেনে হ্যাটন → বাস/টুকটুকে দালহৌসি → হোটেলে বিশ্রাম।
  • দিন–২: রাত ২টার দিকে ট্রেক শুরু → ভোরে সূর্যোদয় দেখা → নামা → নাশতা → দুপুরে হ্যাটন ফেরা।

এডামস পিক ভ্রমণ মানে শুধু এক পাহাড়ে ওঠা নয়। এখানে সূর্যোদয়ের সাথে মিশে আছে হাজার বছরের ধর্মীয় আস্থা, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। যারা শ্রীলঙ্কা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এটি হতে পারে আজীবনের এক স্মরণীয় যায়।

Read Previous

টেংরাগিরি ইকো পার্ক: বরগুনার ম্যানগ্রোভ অভয়ারণ্য

Read Next

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য আজারবাইজান ভ্রমণ ভিসা: সহজলভ্য অনলাইন প্রসেসিং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular