
ছবি: সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিমান ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA)-এর নতুন নির্দেশনার কারণে। দেশের দুই শীর্ষ বিমান সংস্থা—ডেল্টা এয়ার লাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স—একযোগে প্রায় এক হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ৪০টি ব্যস্ততম বিমানবন্দরে ভ্রমণ পরিকল্পনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, এবং যাত্রীরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন।
নির্দেশনার পেছনের কারণ
FAA গত সপ্তাহে একটি বিশেষ নির্দেশ জারি করে প্রধান বিমান সংস্থাগুলিকে জানায়, তারা যেন সাময়িকভাবে নির্ধারিত ফ্লাইট সূচি ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনে। কারণ, ফেডারেল সরকারের চলমান শাটডাউনের কারণে বিমান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কর্মী সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক নিয়ন্ত্রক ও টিএসএ কর্মী বাধ্য হয়ে বেতন ছাড়া ছুটিতে চলে গেছেন বা বিকল্প কাজ খুঁজছেন।
ফলে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যাঘাত ঘটেছে এবং নিরাপদ পরিচালনা নিশ্চিত করতে FAA বাধ্য হয়েছে ফ্লাইট সংখ্যা কমাতে। এক কথায়, এটি ছিল এক ধরনের জরুরি নিরাপত্তা পদক্ষেপ।
ডেল্টার ৫০০ ফ্লাইট বাতিল
ডেল্টা এয়ার লাইনস জানিয়েছে, তারা প্রায় ৫০০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিক রুটগুলো আপাতত স্বাভাবিক আছে। স্কাইটিম জোটভুক্ত এই বিমান সংস্থাটি জানিয়েছে, ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে প্রায় ২৮০টি মূল রুট এবং ২১৫টি ‘ডেল্টা কানেকশন’ ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
ডেল্টা যাত্রীদের আশ্বস্ত করেছে যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ সহায়তা থাকবে। যাত্রীরা তাদের ফ্লাইট পরিবর্তন, বাতিল বা ফেরত নিতে পারবেন কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই। এমনকি ‘বেসিক ইকোনমি’ শ্রেণির টিকিটধারীরাও এই সুবিধা পাবেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২১ নভেম্বরের মধ্যে নতুন ফ্লাইটে পরিবর্তন করলে ভাড়ার পার্থক্যও মওকুফ করা হবে।
সাউথওয়েস্টের ৪০০ ফ্লাইট স্থগিত
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কম খরচের বিমান সংস্থা সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করছে। সংস্থাটি তাদের ১১৭টি কার্যক্রম চালু বিমানবন্দরের মধ্যে ৩৪টিতে সময়সূচি সংকুচিত করেছে।
সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন ১৪০ থেকে ১৫৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে। যদিও সংস্থাটি এখনো নির্দিষ্ট করে জানায়নি কোন বিমানবন্দরগুলো বেশি প্রভাবিত হবে, তবে তারা যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখছে।
সাউথওয়েস্ট জানিয়েছে, প্রভাবিত যাত্রীরা কোনো ফি ছাড়াই নতুন ফ্লাইটে বুকিং পরিবর্তন করতে পারবেন বা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত পাবেন। সংস্থাটির বক্তব্য, “বেশিরভাগ যাত্রীই এই পরিবর্তনে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।”
রাজনৈতিক চাপ ও সংকট মোকাবিলা
পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিমান নিয়ন্ত্রকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এমনকি কর্মরত নিয়ন্ত্রকদের ১০,০০০ ডলার বোনাস দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে নিয়ন্ত্রক ইউনিয়নগুলো অভিযোগ করছে, তাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এই চাপের মধ্যে নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
সেনেট ইতিমধ্যে ফেডারেল সরকার পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তবে পুরোপুরি কার্যকর হতে আরও সময় লাগবে। ততদিন পর্যন্ত FAA-এর এই সীমিত কার্যক্রম চালু থাকবে, ফলে ফ্লাইট বাতিলের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে আরও সংস্থায়
ডেল্টা ও সাউথওয়েস্ট ছাড়াও আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড, স্পিরিট, জেটব্লু এবং ফ্রন্টিয়ারসহ অন্যান্য মার্কিন বিমান সংস্থাও তাদের সেবা কমাচ্ছে। যদিও কানাডার এয়ার কানাডা ও ওয়েস্টজেট জানিয়েছে, তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে FAA-এর এই নির্দেশ প্রযোজ্য নয়, তবে যাত্রীদের সম্ভাব্য বিলম্বের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
FAA-এর এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল ব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত। তবে এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা, যাদের পরিকল্পিত ভ্রমণগুলো হঠাৎ বাতিল হয়ে গেছে। যদি শাটডাউন দ্রুত না শেষ হয়, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহেও বিমান ভ্রমণে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।



