১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ানবি ভিসায় নতুন খরচ, বিদেশি কর্মীদের জন্য কঠিন হয়ে গেল যাত্রা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী হিসেবে যাওয়ার জন্য এইচ-ওয়ানবি ভিসার আবেদন এখন আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠল। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে এই ভিসার জন্য এক লাখ ডলার বা প্রায় ৭৪ হাজার পাউন্ড অতিরিক্ত ফি আরোপ করেছেন। এই আদেশ অনুযায়ী, যদি আবেদনকারীরা নির্ধারিত অর্থ প্রদান না করেন বা ভিসার ‘অপব্যবহার’ ঘটে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে।

এইচ-ওয়ানবি ভিসা দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের মুখে ছিল। সমালোচকরা বলেন, এটি আমেরিকানদের কাজের সুযোগ হরণ করছে, তবে ইলন মাস্কের মতো প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা মনে করেন, এটি বিশ্বের প্রতিভাবান মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার সুযোগ বাড়াচ্ছে।

অন্য একটি আদেশে ট্রাম্প প্রশাসন ‘গোল্ড কার্ড’ নামে নতুন ভিসা ব্যবস্থা চালু করেছে। এতে কিছু নির্দিষ্ট খাতের অভিবাসীরা এক মিলিয়ন পাউন্ড থেকে শুরু করে ফি প্রদান করলে দ্রুত ভিসা পাবেন। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, এইচ-ওয়ানবি ভিসার জন্য বড় কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যেই এক লাখ ডলার ফি প্রদানে রাজি। তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্প্রতি স্নাতক হওয়া কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে, আমেরিকানদের চাকরিতে সহায়তা করতে হবে, এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয়দের সুযোগ কমানো বন্ধ করতে হবে।”

২০০৪ সাল থেকে প্রতি বছর এই ভিসার সংখ্যা ৮৫ হাজারে সীমাবদ্ধ ছিল। আবেদনকারীরা আগে প্রায় এক হাজার পাঁচশ ডলার খরচ করতেন। কিন্তু সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরের জন্য আবেদন সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৫৯ হাজারে নেমে এসেছে – যা চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ছোট ও মাঝারি ব্যবসা ও স্টার্টআপে। ইমিগ্রেশন আইনজীবী তাহমিনা ওয়াটসন বলেন, “এক লাখ ডলারের ফি অনেক ছোট কোম্পানির পক্ষে বহনযোগ্য নয়। এতে তারা সহজেই বলবে, ‘আমরা বিদেশি প্রতিভা খুঁজছি না’। ফলে দেশীয় প্রতিভা বাড়ানোর সুযোগও সীমিত হবে।”

প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষক জর্জ লোপেজ বলেন, নতুন ফি আমেরিকান প্রতিযোগিতাকে ধীর করবে, এমনকি কিছু কোম্পানি বিদেশে কার্যক্রম বাড়ানোর কথা ভাবতে পারে, যদিও বাস্তবে সেটি চ্যালেঞ্জিং হবে।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসার যাচাই-বাছাই কঠোর করার চেষ্টা করেছিল। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৪ শতাংশে পৌঁছায়।

নতুন ফি আরোপের সিদ্ধান্ত বিশেষ করে ভারতের মতো দেশগুলোতে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি এইচ-ওয়ানবি ভিসা আবেদন আসে।

Read Previous

মেক্সিকো সিটিতে এলপিজি ট্যাংকার বিস্ফোরণ: নিহত ২৫, আহত অন্তত ৬০

Read Next

যুক্তরাষ্ট্র মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular