১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসায় নতুন সীমাবদ্ধতা প্রস্তাব

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবার শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বেঁধে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

এখন পর্যন্ত এফ (F) ভিসাধারীরা পড়াশোনার পুরো সময়টুকু যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতেন, যা পরিচিত ছিল duration of status নামে। দীর্ঘদিন ধরে এ নীতিই মার্কিন উচ্চশিক্ষা বেছে নেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছিল। তবে নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ একাডেমিক প্রোগ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত সীমিত থাকবে। পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের হাতে থাকবে মাত্র ৬০ দিন—ভিসার মেয়াদ বাড়ানো, অন্য ভিসায় রূপান্তর বা দেশে ফেরার জন্য।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলো শিক্ষার্থীদের প্রায় অনির্দিষ্টকালের মতো থাকতে দেওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, করদাতাদের অর্থের চাপ বেড়েছে এবং মার্কিন শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে। তাদের ভাষায়, নতুন নীতি সরকারকে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি সহজ করবে।

এ সময় শিক্ষার্থী ভিসার ওপর কঠোর ধরপাকড়ও চলছে। কেবল সাম্প্রতিক কয়েক মাসেই স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল করেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে থেকে যাওয়া, অপরাধে জড়িত থাকা বা নিরাপত্তাজনিত অভিযোগে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোকে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদনকারীদের কঠোর যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রের সমাজ, সংস্কৃতি, সরকার বা নীতির প্রতি কোনো শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব আছে কি না, তা একাধিক ধাপে পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশ থেকে প্রতিবছর হাজারো শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য যান। দীর্ঘদিন ধরে নমনীয় ভিসা নীতি ও পড়াশোনার পর চাকরির সুযোগ তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত করেছে। কিন্তু নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিশেষ করে দীর্ঘ মেয়াদি পড়াশোনায়, যেমন পিএইচডি বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, শিক্ষার্থীরা জটিলতায় পড়তে পারেন। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি খোঁজা বা উচ্চতর প্রোগ্রামে যোগ দেওয়ার মাঝের সময়ও আর সহজলভ্য হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পাশাপাশি এখন শিক্ষার্থীদের মনে আরও বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে তারা কি আসলেই সম্পূর্ণ একাডেমিক যাত্রা শেষ করতে পারবেন?

সূত্র: সিএনএন

Read Previous

ভয়েস অব আমেরিকায় বড় ধাক্কা, চাকরি হারাচ্ছেন শতাধিক কর্মী

Read Next

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-স্থানীয়দের সংঘর্ষে আহত অন্তত ৬০, পরীক্ষা স্থগিত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular