দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির প্রায় সব বিদেশি সহায়তা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। নিজের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সবার আগে) নীতি কার্যকর করার অংশ হিসেবে তিনি এ উদ্যোগ নেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে দেশটির কোটি কোটি ডলারের বৈশ্বিক সহায়তা প্রদান স্থগিত হয়ে গেছে।
এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘নিজ দেশের মানুষের জন্য কোনো ফিরতি পাওয়া না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আর অন্ধভাবে অর্থ বিতরণ করবে না—প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এটা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।’ পরিশ্রমী করদাতাদের পক্ষে এমন বৈদেশিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও তা পুনর্বিন্যাস করা শুধু সঠিক কাজই নয়, এটি একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতাও—যোগ করেন তিনি।
এককভাবে বিশ্বের শীর্ষ দাতা দেশের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণা বিশ্বজুড়ে অনেকের মধ্যে আলোড়ন তৈরি করেছে। বিভিন্ন সহায়তা প্রতিষ্ঠানগুলোও সতর্ক করে বলেছে, ট্রাম্পের এ উদ্যোগ বিশ্বে অনেকের জীবন ঝুঁকিতে ফেলবে। ওয়াশিংটন ২০২৩ সালে প্রায় ১৮০টি দেশে ৭২ বিলিয়ন (৭ হাজার ২০০ কোটি) ডলারের সহায়তা বিতরণ করেছে।
এখন আগামী তিন মাসে (বৈদিশিক সহায়তা কার্যক্রম স্থগিত করার ৯০ দিনের মেয়াদে) মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ কার্যক্রম ‘চালিয়ে যাওয়া, সংশোধন করা কিংবা বন্ধ করার’ বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নথিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর মাঝেই গত শুক্রবার রুবিওর পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহায়তা আর অন্যান্য খাতে সহায়তা দেওয়া মার্কিন প্রকল্পগুলো বন্ধ করতে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোয় বার্তা পাঠানো হয়েছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের মতো যেসব জায়গার মানুষেরা চরম দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার সঙ্গে লড়ছেন, তাঁদের জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তা কার্যক্রমকে স্থগিতাদেশের বাইরে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েল ও মিসরকে দেওয়া সামরিক সহায়তাও ঘোষণার বাইরে আছে।



