যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ইস্যুতে তৃতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতিতে বাংলাদেশ, পাঠানো হচ্ছে চূড়ান্ত অবস্থানপত্র

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্কহার কমানোর দাবিতে তৃতীয় দফায় আলোচনায় বসার জন্য আবারও সময় চেয়ে ই-মেইল করেছে বাংলাদেশ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কাছে এই অনুরোধ পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ইউএসটিআর জানায়, বর্তমানে তাদের কর্মকর্তারা এতটাই ব্যস্ত যে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকে বসার সময় বের করা কঠিন হবে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, বাংলাদেশ যেন তাদের পূর্ব সম্মতি নিয়েই আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়।

এদিকে আজ মঙ্গলবার (২২ জুলাই) এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত অবস্থানপত্র পাঠাতে পারে বাংলাদেশ। অবস্থানপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোন কোন বিষয়ে বাংলাদেশ একমত হতে পারে, তা স্পষ্ট করা হবে বলে জানা গেছে।

বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমরা সময় চেয়েছি, তারা তাদের সুবিধামতো সময় জানাবে। আগেরবারও খুব অল্প নোটিশে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছিলাম।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইউএসটিআর এখনো ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে কাজ করছে এবং আলোচনা করতে গেলে তাদের প্রস্তুতির প্রয়োজন পড়ে।

অবস্থানপত্র চূড়ান্ত করতে গতকাল সোমবার বিকেলে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান ও বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে।

উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ৬০টি দেশের পণ্যের উপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। এর আওতায় বাংলাদেশের পণ্যের উপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসে, যা ৯ এপ্রিল তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেশটি। এর পরেও দুই দফা আলোচনা করেও বাংলাদেশ সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি ৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাংলাদেশকে চিঠি দিয়ে জানান, শুল্কহার ৩৭ শতাংশের পরিবর্তে ৩৫ শতাংশ হবে।

বিষয়টি নিয়ে দেশে হতাশা তৈরি হয়েছে। পোশাক খাতের রপ্তানিকারকরা সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতির সমালোচনা করেন। অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা যায়। এরই মধ্যে গত জুনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র এক ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট (NDA)’ করে, ফলে আলোচনা সংক্রান্ত কোনো তথ্য সরকার প্রকাশ করতে পারছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থার মধ্যেও সরকার কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন, গত রোববার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ৭ লাখ টন গম আমদানির জন্য সমঝোতা স্মারক (MOU) স্বাক্ষর করা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক প্রায় শতভাগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

লবিস্ট নিয়োগের দিকেও নজর
বিষয়টি নিয়ে লবিস্ট নিয়োগের দাবি দীর্ঘদিন ধরেই ছিল রপ্তানিকারকদের। অবশেষে সরকারও বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে বলে জানা গেছে। বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, “আগামী ১০-১১ দিনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে আমরা আলোচনার পথ খোলা রাখতে লবিস্ট নিয়োগে আগ্রহী।”

তিনি আরও বলেন, “লবিস্ট নিয়োগে সাত দিন লাগতে পারে। ইতোমধ্যে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আমাদের পাশে এসেছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাল্টা শুল্ক কমানো শুধু অর্থনীতির জন্য নয়, বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রক্রিয়ায় সরকারের কূটনৈতিক প্রস্তুতি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ই হতে পারে মূল চাবিকাঠি।

 

Read Previous

গাজা যুদ্ধ বন্ধে ২৫টি দেশের আহ্বান, ইসরাইল বলছে ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন’

Read Next

ডলার-সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অর্থনীতি, আমদানিতে গতি ফেরাতে প্রয়োজন সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular