
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। নতুন এই শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে আগামী ১ আগস্ট থেকে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভর ৮০১টি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান, যারা দেশের রপ্তানির একটি বড় অংশ বহন করে।
তথ্য বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে মোট ২ হাজার ৩৭৭টি প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে ৮০১টি প্রতিষ্ঠানের মোট রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি গেছে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকে আবার কেবল মার্কিন বাজারের ওপরই নির্ভরশীল।
বিশেষ করে তৈরি পোশাক, জুতা, ব্যাগ, আসবাব ও খাদ্যপণ্য রপ্তানিকারকরা বড় বিপদের মুখে পড়েছে। চট্টগ্রামের ফরচুন অ্যাপারেলসের মতো প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম জানিয়েছেন, প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের শুল্কহার ১০–১৫ শতাংশ বেশি হওয়ায় ব্যবসা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইনডিপেনডেন্ট অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আবু তৈয়ব বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হলে ক্রেতারা আর আমাদের পণ্য নিতে আগ্রহ দেখাবে না।”
এমন পরিস্থিতিতে শুধু রপ্তানি খাত নয়, পর্যটন খাতও间পেক্ষভাবে চাপে পড়তে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনেক পর্যটক, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে আগ্রহী ছিলেন। রপ্তানির ধসের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ কমে গেলে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, হোটেল-রিসোর্ট নির্মাণসহ নানা খাতে বিনিয়োগে ধীরগতি দেখা দিতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। যদিও এখনো কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করে শুল্ক কমানোর সুযোগ রয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাড়তি শুল্ক কমানো যায়, তবে নতুন করে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক ও পর্যটনখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, ৯ জুলাইয়ের আলোচনায় কোনো ইতিবাচক সুর বেরিয়ে আসবে। না হলে, দেশের বৈদেশিক আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস দুটি খাতই মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।



