১৮/০৪/২০২৬
৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের আবেদন এখন হবে পুরোপুরি ডিজিটাল: বাংলাদেশিদের জন্য আসছে ই-ভিসা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। খুব শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে ই-ভিসা পদ্ধতি, যা হবে সম্পূর্ণ কাগজবিহীন, অনলাইনভিত্তিক ও ডিজিটাল। এর ফলে আবেদনকারীদের আর পাসপোর্টে স্টিকার লাগানোর প্রয়োজন হবে না।

যুক্তরাজ্য সরকার ইতোমধ্যে ১৫ জুলাই পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ই-ভিসা কার্যক্রম শুরু করেছে। এবার বাংলাদেশকেও সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আলোচনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় সব ভিসা ক্যাটাগরিতে শারীরিক স্টিকার বা ভিনিয়েট তুলে দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়েছে যুক্তরাজ্য।

এই উদ্যোগের আওতায় আবেদনকারীদের ভিসা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত সকল তথ্য ‘ইউকে ভিসা অ্যান্ড ইমিগ্রেশন (UKVI)’ এর একটি নিরাপদ অনলাইন অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে আবেদনকারীরা নিজ নিজ পাসপোর্ট নিজের কাছেই রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন।

ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দিন সুমন, যিনি লন্ডনের ‘ল ম্যাট্রিক সলিসিটরস’-এর একজন অংশীদার, জানান, “নতুন এই পদ্ধতিতে ভিসা আবেদনকারীদের ডিজিটাল প্রমাণ থাকবে, যার মাধ্যমে তারা সহজেই নিজেদের অভিবাসন অবস্থা প্রমাণ করতে পারবেন। এটি ভ্রমণ, পরিচয় যাচাই এবং নিয়োগকর্তা বা বাড়িওয়ালার কাছে তথ্য উপস্থাপনকে আরও সহজ ও নিরাপদ করে তুলবে।”

যুক্তরাজ্য সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ই-ভিসা চালুর ফলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ হবে। আবেদনকারীরা ‘ভিউ অ্যান্ড প্রুভ’ নামক অনলাইন সেবা ব্যবহার করে তাদের ভিসার অবস্থা তৃতীয় পক্ষকে দেখাতে পারবেন।

পাকিস্তানে ইতোমধ্যে চালু হওয়া ই-ভিসা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শিক্ষার্থী ভিসা, স্বল্পমেয়াদি কোর্স (১১ মাস পর্যন্ত), দক্ষ কর্মী, গ্লোবাল ট্যালেন্ট, ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টসপারসন, ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিম এবং বিভিন্ন সাময়িক ভিসা। তবে নির্ভরশীল ভিসা, সাধারণ ভিজিটর ও ভিন্ন ধরনের স্বল্পমেয়াদি ভিসার ক্ষেত্রে এখনও স্টিকার ব্যবহৃত হচ্ছে।

যদিও বাংলাদেশিদের জন্য ই-ভিসা চালুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবুও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।

পরিশেষে, যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা বা কাজের লক্ষ্যে যাঁরা ভিসা আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাঁদের যুক্তরাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও তথ্যসূত্র নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, ই-ভিসা চালুর পর আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, যাচাই পদ্ধতি ও প্রবেশ-সংক্রান্ত নিয়মে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

Read Previous

ভৈরব ভ্রমণ: ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রকৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন

Read Next

কাপ্তাই হ্রদের বুকে স্বপ্নীল মায়াবী দ্বীপ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular