
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক :প্রতিদিন বিকেল নামলেই পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার যমুনা নদীর তীরে জড়ো হচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের আড্ডা সেরে আবার কেউ দল বেঁধে নৌকায় চড়ে পাড়ি দিচ্ছেন নদী। তাদের গন্তব্য দক্ষিণ চরডালিয়া, চরগোলাপপুর, চরনবিপুর আর চরসোনাতলা—যে চরগুলো এখন শরতের কাশফুলে সেজে উঠেছে স্বর্গীয় সাদা রূপে।
কাশফুলে ভরা এই চরগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় সাদা মেঘের ঢেউ ভেসে বেড়াচ্ছে জমিনের ওপর। বাতাসের ঝাপটায় দুলতে থাকা কাশের সারি সৃষ্টি করেছে এক স্বপ্নময় পরিবেশ, যা দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের সাঁথিয়া, শাহজাদপুরসহ দূরের উপজেলার দর্শনার্থীরাও।
নদী পাড়ের ঘাট থেকে নৌকায় চড়লেই চোখে পড়ে কাশফুলে মোড়া চর। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ সাদা কাশফুল হাতে পোজ দিচ্ছেন, বাচ্চারা দৌড়ে বেড়াচ্ছে কাশবনের ভেতর। খোলা বাতাস আর কাশফুলের মিশেলে তৈরি হচ্ছে অকৃত্রিম আনন্দের মুহূর্ত।
স্থানীয় এক কলেজশিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, “বাচ্চাদের সাথে কাশবনে হেঁটে বেড়াচ্ছি, সবাই ছবি তুলছে—মনটা একেবারে প্রশান্ত হয়ে যায়।”
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন গঠিত চরগুলোর বেশির ভাগ অংশই জনবসতিহীন। সেই ফাঁকা জায়গাগুলোতেই কাশফুল ছড়িয়ে পড়েছে এক বিস্তীর্ণ প্রান্তরে। ভাদ্রের শেষ থেকে ফুটতে শুরু করা এই কাশ কার্তিক জুড়েই থাকে, আর এই সময়েই বাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়।
পাবনা শহর থেকেও এখন অনেকেই পরিকল্পনা করে কাশফুল দেখতে আসছেন। স্যার সোহেল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী মাহি আরাফাত জানালেন, “অনলাইনে ছবিতে দেখেই ইচ্ছা ছিল সরাসরি দেখব। আজ পরিবার নিয়ে এসে মনে হচ্ছে সত্যিই অন্য এক জগতে আছি।”
যমুনার পাড়ের স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, “পেঁচাকোলা ঘাট থেকে নৌকায় চরে যেতে সময় লাগে ১৫ মিনিটের মতো। যাওয়া–আসার ভাড়া জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকা। এ মৌসুমে ঘাটেই এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।”
কাশফুলের মৌসুমে এভাবে বেড়ার চরগুলো পরিণত হয়েছে এক নতুন পর্যটনকেন্দ্রে। প্রকৃতির সঙ্গে কিছুক্ষণ নির্জনতা আর সাদা স্বপ্নের মতো কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে এখন যমুনার চরে ছোট্ট একটা ভ্রমণই যথেষ্ট।
পর্যটন সংবাদ মনে করে—যতক্ষণ এই কাশফুলেরা সাদা শিখার মতো দুলবে নদীর বাতাসে, ততক্ষণ এই চরে ভ্রমণপ্রেমীদের পদচারণা থামবে না।
—
আরও চাইলে আমি এই স্থান ভ্রমণের সম্পূর্ণ গাইড (কীভাবে যাবেন, খরচ, করণীয়-অকরণীয়, ছবি তোলার হটস্পট) তৈরি করে দিতে পারি। বললেই শুরু করছি।



