
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ব্যাংকিং খাতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী আহসান খলিলের আকস্মিক পদত্যাগ। তিন বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিলেও মাত্র ১৫ মাসেই তিনি পদ ছাড়লেন। এ ঘটনায় ব্যাংকটির নতুন পর্ষদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কাজী আহসান খলিল ‘পর্যটন সংবাদ’-কে জানান, নতুন পর্ষদ হঠাৎ করে তাঁকে ছুটিতে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হয়ে তিনি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রের অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকেও পাঠানো হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
৩৫ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে কাজী খলিল দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কিছু ব্যাংকে দায়িত্ব পালন করেছেন। মেঘনা ব্যাংকে যোগদানের আগে তিনি এনআরবি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান ব্যবসায় কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেঘনা ব্যাংকের এমডির পদত্যাগপত্র তারা গ্রহণ করেছেন। এর আগে চলতি বছরের মার্চে মেঘনা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন পর্ষদ গঠন করে। নতুন পর্ষদে যুক্ত হন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা, বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ একাধিক স্বাধীন পরিচালক।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন অভিজ্ঞ এমডির আকস্মিক পদত্যাগ ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও গ্রাহকদের আস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মেঘনা ব্যাংকের প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এইচ এন আশিকুর রহমান। ব্যাংকটির প্রভাবশালী শেয়ারধারীদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁদের সরিয়ে নতুন পর্ষদ গঠনের পর থেকেই শুরু হয় অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, মেঘনা ব্যাংকের ঘটনাপ্রবাহ বাংলাদেশের আর্থিক খাতে নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।



