আগামী মার্চ মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল থেকে আন্দোলন করা মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেছেন। তারা এখন বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ৩ টা ১৮ মিনিটে প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে আলোচনা শেষে এই ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ৩১ মে মালয়েশিয়া প্রবেশের শেষ সময় হলেও— এজেন্সি অজানা কারণে তাদের সে দেশে পাঠাতে পারেনি। এর মধ্যে একাধিকবার সরকারের পক্ষ থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও অনেকেই টাকা ফেরত পায়নি। অভিযোগ জানানোর পরও এর কোনো সুরাহা হয়নি। তাই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন তারা।
রাকিবুল ইসলাম নামক এক শ্রমিক বলেন, টাকা দিয়ে দুই বছর সময় পার করেও মালয়েশিয়া যেতে পারিনি, আমরা আর মালয়েশিয়া যেতে চাই না, আমাদের টাকা ফেরত চাই। সিন্ডিকেটের ১০০ এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে মালিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে এবং বিদেশে পলাতক মালিকদের পাচার করা টাকা বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের দিতে হবে।
আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাকা ফেরত চাওয়াসহ তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হচ্ছে– কর্মীদের সমস্যার সমাধান না করে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো বন্ধ রাখা, রিক্রুটিং এজেন্সির রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করা ট্রাভেল এজেন্ট, সাব এজেন্ট ও দালালদের অবিলম্বে গ্রেফতার, মন্ত্রণালয় ও বিএমইটিতে অভিযোগ করার ৩-৪ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও নিষ্পত্তি না হওয়ার ব্যাখ্যা, দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় সরকারি কোনো ব্যাংকে জমা নেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিপূরণ আদায় করে না দিতে পারলে সরকারকে ব্যর্থতার দায়গ্রহণ এবং সরকারি খরচে প্রত্যেককে মালয়েশিয়া ছাড়া অন্য যেকোনো দেশে বিনাখরচে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
- আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া মাইন উদ্দীন বাবু বলেন, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না। আমাদের আরও কর্মী আসছে। কিছুক্ষণ পর আমরা সড়ক অবরোধ করবো।



