
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপ এখন বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল। ঝকঝকে নীল জলরাশি, বিলাসবহুল রিসোর্ট আর নিরিবিলি সৈকতের জন্য বিখ্যাত এই দেশ ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকে করেছে অত্যন্ত সহজ ও ঝামেলামুক্ত।
অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো— মালদ্বীপে আগমনের পরই ভিসা (Visa on Arrival) পাওয়া যায়।
নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলেই ৩০ দিনের জন্য এই ভিসা প্রদান করা হয়। এর জন্য আগেভাগে দূতাবাসে গিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
ভিসা পাওয়ার পূর্বশর্তসমূহ
মালদ্বীপে পৌঁছে ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’ পেতে হলে যাত্রীকে নিম্নলিখিত কাগজপত্র সঙ্গে রাখতে হবে:
- যথাযথভাবে পূরণ করা পাসপোর্ট – যা কমপক্ষে ৬ মাসের জন্য বৈধ।
- রিটার্ন এয়ার টিকিট – মালদ্বীপ ত্যাগের তারিখসহ নিশ্চিত টিকিট।
- হোটেল বা রিসোর্ট বুকিংয়ের প্রমাণ – অথবা আমন্ত্রণপত্র (যদি স্থানীয় কেউ হোস্ট করে)।
- যথাযথ অর্থের প্রমাণ – দৈনিক অন্তত ১০০ ডলার বা সমপরিমাণ মুদ্রা বহনের প্রমাণ (যেমন: নগদ অর্থ, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট)।
ইমিগ্রেশন ফর্ম ও স্বাস্থ্যঘোষণা
ভ্রমণের পূর্বে ‘Maldives IMUGA’ ওয়েবসাইটে (https://imuga.immigration.gov.mv/) গিয়ে একটি Traveller Health Declaration Form পূরণ করতে হয়, যা আগমনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জমা দিতে হবে।
ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি
প্রয়োজনে মালদ্বীপে অবস্থানকাল ৩০ দিন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যায়। তবে এর জন্য স্থানীয় ইমিগ্রেশন অফিসে গিয়ে যুক্তিসঙ্গত কারণসহ আবেদন করতে হবে।
বাংলাদেশিদের জন্য জনপ্রিয় স্থান
বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে মালদ্বীপের মালে সিটি, হুলহুমালে, মাহিবাধু, আরু, মাফুশি দ্বীপ ইত্যাদি স্থানের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। হানিমুন, ফ্যামিলি ট্রিপ বা ওয়াটার স্পোর্টসের জন্য মালদ্বীপ এখন অন্যতম পছন্দের গন্তব্য।
সতর্কতা
মালদ্বীপে মাদক, অশ্লীল সামগ্রী ও ধর্মীয় প্রচারণা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এসব নিয়ে ভ্রমণে গেলে গ্রেপ্তার বা জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন।
ভিসা প্রক্রিয়ার সরলতা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং দ্রুত ফ্লাইট সংযোগ—সব মিলিয়ে মালদ্বীপ এখন বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য সহজ ও আকর্ষণীয় ভ্রমণগন্তব্য। সামান্য প্রস্তুতি নিয়ে আপনিও মালদ্বীপ ভ্রমণ করতে পারেন নিশ্চিন্তে।



