২০/০৬/২০২৬
৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উত্তেজনা চরমে — জুলাই সনদ ঘিরে সংঘর্ষ, আগুন ও অবরুদ্ধ সড়ক

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বহুল আলোচিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান ঘিরে সকাল থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউতে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। দুপুরের আগেই পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয় জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে।

সাক্ষর অনুষ্ঠান স্থল ঘিরে পুলিশের ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘রোড ব্লকার’ স্থাপন করে। কিন্তু আন্দোলনকারীরা সেই ব্লকারগুলো একত্র করে আগুন ধরিয়ে দেয়। সঙ্গে অস্থায়ীভাবে তৈরি করা সেচ ভবনের সামনে থাকা তাঁবুতেও আগুন লাগানো হয়।

যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ, এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে

আগুন ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে মানিক মিয়া এভিনিউ ও আশপাশের সব রাস্তা এখন কার্যত অচল। সাধারণ পথচারীদের চলাচলও বন্ধ হয়ে গেছে। মিরপুর সড়ক পর্যন্ত যান চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে পুলিশ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে পোড়া সামগ্রী, ভাঙা চেয়ার-টেবিল ও সিরামিকের থালা-বাসন।

দুপুর ২টার দিকে পুলিশের কঠোর অভিযানে আন্দোলনকারীদের মূলচত্বর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে পুলিশ মানিক মিয়া এভিনিউয়ের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্দোলনকারীদের দুটি গ্রুপ ছত্রভঙ্গ হয়ে আড়ং-এর সামনে ও খামারবাড়ি মোড়ে অবস্থান নিয়েছে। আসাদগেট এলাকায় মুখোমুখি অবস্থান করছে উভয় পক্ষ।

সাউন্ড গ্রেনেড, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

পুলিশকে থামাতে আন্দোলনকারীরা স্লোগান ও আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করে। অপরদিকে পুলিশ থেমে থেমে সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে মানুষ সরিয়ে দেয়। এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে, পরিস্থিতি থমথমে।

বিকালে সনদ স্বাক্ষর, তার আগেই উত্তেজনা চূড়ায়

আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ছাত্র ও নাগরিকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং “জুলাই আহত বীর” মর্যাদার দাবিতে সকাল থেকেই এলাকায় অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বললেও তারা পিছু হটেননি। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি অচেনে মোড় নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিকালের সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Read Previous

চট্টগ্রাম সিইপিজেডে ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে, এখনও চলছে নির্বাপণ অভিযান

Read Next

জুলাই জাতীয় সনদে ঐতিহাসিক স্বাক্ষর — দক্ষিণ প্লাজায় ভিন্ন আবহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular