
নরসিংদী সদর চরাঞ্চলের নজরপুর ইউনিয়নের সর্ব দক্ষিনের একটি গ্রাম নজরপুর। চরাঞ্চলের চারপাশ দিয়ে বয়ে চলেছো মেঘনা নদী, নজরপুরের মেঘনা নদীর তীর কে অনেকে নজরপুরের টেক বা মিনি কক্সবাজার নামে চিনে থাকে।
নরসিংদীর মিনি কক্সবাজার খ্যাত নজরপুরের এই টেক নরসিংদী ও তার আশেপাশের মানুষের কাছে স্থান পেয়েছে পর্যটন এলাকা হিসেবেই।
মিনি কক্সবাজার খ্যাত এই নজরপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মানুষ কে বরাবরের মতই মুগ্ধ করে আসছে। নজরপুরের বসতি এলাকার পর থেকে বিশাল ফসলের মাঠ,মাঠের শেষে মেঘনা নদী,চারপাশের পরিবেশ খোলা-মেলা। বিকালের দক্ষিনা হাওয়া, নদীর ঢেউ ও কলকল শব্দে বয়ে চলা জলরাশীর শব্দ যে কোন প্রকৃতি প্রেমি কে কাছে ডাকবে। প্রকৃতি প্রেমিরা প্রতিবছরই সেই ডাকে সারা দিয়ে থাকে এই মিনি কক্সবাজারে।
এই মিনি কক্সবাজার,প্রায় প্রতিবছরই পাড় ভাঙ্গনের কারণে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে আসছে।
প্রকৃতি প্রেমিদের আশা, এখানে নদী ভাঙ্গন রোধে বেরি বাঁধ হবে। সুন্দর ও মনোরম পরিবেশের এই জায়গাটি পর্যটন এলাকা হিসেবে গড়ে উঠবে।
ছবিতে দেওয়া এই দানবীয় মেশিন গুলো দেখলে এখানে আগত প্রকৃতি প্রেমিরা হয়তো সেটাই ভাববে যে, এখানে হয়তো নদী ভাঙ্গন রোধে বেরি বাঁধ নির্মানের জন্য,বা পর্যটক এলাকা হিসেবে কাজ করার জন্য এত আয়োজন করা হচ্ছে।
কিন্তু না,বাস্তবিকতা সম্পূর্ণ বিপরীত মুখী। চরাঞ্চল তথা নরসিংদীর এ সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন এলাকা অচিরেই নদীগর্ভে বিলীন হতে যাচ্ছে, এর জন্যই এত আয়োজন।
ভূমি খেকোদের কুদৃষ্টি এবং স্থানীয় কিছু অসাধু ও লোভী মানুষের জন্য চরাঞ্চলের এই নজরপুরের টেক যা মিনি কক্সবাজার নামে পরিচিত তা ধ্বংস হতে যাচ্ছে। এখান থেকে মাটি কেটে নেওয়ার জন্যই এই বিশাল প্রস্তুতি ভূমি খেকোদের।
বাংলাদেশে প্রতিবছরই হাজার হাজার হেক্টর জমী নদীতে বিলীন হচ্ছে।’যমুনা-মেঘনা নদী ভাঙন নিরসন প্রকল্প’ শীর্ষক এডিবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর আনুমানিক ১০ হাজার হেক্টর জমি ভাঙনের কবলে পড়ে। ভূমি খেকোদের এই কার্যক্রম চলতে দিলে হয়তো একসময় নজরপুরও বিলীন হয়ে যাবে। তা হতে দেওয়া যায় না,হতে দেওয়া উচিত নয়।
এই বিষয়ে নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছে সাধারণ মানুষ ও ভ্রমণ প্রেমীরা।



