ভুয়া নথিতে কানাডা ভিসার চেষ্টা: সিঙ্গাপুর থেকে ফিরল ৬০০ বাংলাদেশির পাসপোর্ট, তদন্তে সিআইডি

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : কানাডার ভিসা পাওয়ার জন্য ভুয়া তথ্য ও জাল নথি ব্যবহারের একটি বড় চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত কানাডিয়ান হাইকমিশন সম্প্রতি বস্তাভর্তি প্রায় ৬০০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ফেরত পাঠিয়েছে, যেগুলোতে করা ভিসা আবেদন যাচাইয়ে সবকিছুই ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। পাসপোর্টগুলো প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর কাছে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি প্রকাশ করেন লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে কানাডার ভিসার আবেদন প্রক্রিয়া সিঙ্গাপুরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র ভুয়া সার্টিফিকেট, মিথ্যা তথ্য ও জাল ডকুমেন্ট ব্যবহার করে আবেদন জমা দিচ্ছিল।

তিনি আরও বলেন, আবেদন যাচাইয়ে সমস্যা ধরা পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে অনেক আবেদনকারী আর পাসপোর্ট নিতে যায় না। পরে পাসপোর্ট হারিয়েছে মর্মে থানায় সাধারণ ডায়েরি করে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হয় এবং একইভাবে আবারও ভুয়া ভিসা আবেদনের চেষ্টা চালানো হয়। এতে করে একটি চক্র বারবার আইনকে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

এই ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে এই প্রতারণা সংঘটিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। ৬০০ পাসপোর্টধারীর পরিচয়, তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দালাল এবং নেটওয়ার্কের গভীরতা এখন তদন্তের আওতায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হাতে গোনা কয়েকজন দালাল এই অপকর্মের মূল হোতা।

লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, এই ধরনের ঘটনার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক দেশে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, বাংলাদেশ অবৈধ অভিবাসন রোধে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। দ্রুত ও সংখ্যার দিক থেকে বেশি মানুষ বিদেশে পাঠানোর ওপর জোর দেওয়া হলেও তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের বিষয়টি অনেক সময় উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রমাণ করা যে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরে না এলে ভবিষ্যৎ শ্রমবাজার ও অভিবাসন সহযোগিতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার লিগ্যাল ও স্কিলড মাইগ্রেশনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ইতালিসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে কার্যকর সমঝোতার মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলছে। সঠিক নীতি ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।

Read Previous

দুবাইয়ের পর্যটনে নতুন আকর্ষণ: বিশ্বের প্রথম ‘গোল্ড স্ট্রিট’ ঘিরে গড়ে উঠছে স্বর্ণনগরী অভিজ্ঞতা

Read Next

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন সংকট: মৌসুমী মন্দা ও অর্থনৈতিক ধস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular