
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনামে যাওয়ার ভিসা প্রক্রিয়ায় ২০২৫ সালে এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ও সহজীকরণ, যা পর্যটন দূতাবাস থেকে শুরু করে অন‑লাইনে আবেদন, জরুরি সেবা ও নতুন ‘গোল্ডেন ভিসা’ সংযোজন পর্যন্ত বিস্তৃত।
১. কোন ধরনের ভিসা প্রয়োজন বাংলাদেশিদের?
বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিয়েতনাম সফরে ভিসামুক্ত নয় । তাই পর্যটন বা ব্যবসায়িক যাই হোক, ভিসা আবশ্যক।
২. ই‑ভিসা (E‑Visa) – সহজ ও দ্রুত
- আগস্ট ১৫, ২০২৩ থেকে ভিয়েতনাম সকল জাতিসত্তার জন্য ই‑ভিসা চালু করেছে যা ৯০ দিনের একক বা বহুমাত্রা প্রবেশাধিকার সমর্থন করে ।
- দর: একক প্রবেশে USD ২৫, বহুমাত্রায় USD ৫০ ।
- প্রক্রিয়াকরণ সময়: সাধারণত ২‑৭ কার্যদিবস, জরুরি আবেদন দ্রুত করেও ২৪‑৭২ ঘণ্টায় অনুমতি পাওয়া যায় ।
- প্রয়োজনীয় নথিপত্র:
- ৬ মাসের বেশি মেয়াদসীমাবদ্ধ পাসপোর্ট,
- কমপক্ষে ২টি খালি পাতা,
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাদা পটভূমি, মুখ সামনে, হাসি নয়),
- পাসপোর্টের তথ্য পৃষ্ঠা স্ক্যান,
- হোটেল বুকিং, ফ্লাইট বা এন্ট্রি/এক্সিট পোর্ট উল্লেখ ।
- প্রবেশ পয়েন্টসমূহ:
- আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে (হানোই, হো চি মিন, দা ਨং, ক্যাম রাণ, ক্যান ঠো, ফু কুয়োক, ফু বাই ইত্যাদি),
- নির্দিষ্ট ল্যান্ড বর্ডার ও সাগর বন্দরেও ই‑ভিসা গ্রহণযোগ্য ।
৩. ভিসা অন অ্যারাইভাল (VOA) – বিমানবন্দরে স্ট্যাম্প
- শুধুমাত্র বিমান পৌঁছানোর সময় প্রযোজ্য। ই-ভিসার মতো অন‑লাইনে অনুমোদন পত্র নিয়ে যেতে হবে ।
- স্ট্যাম্পিং ফি: একক USD ২৫, বহুমাত্রায় USD ৫০ টাকা, যা ভিসা আগ্রহ পত্রের সাথে প্রদান করতে হয় ।
- প্রক্রিয়াকরণ সময়: অনুমোদন পত্র পেতে সাধারণত ২ কার্যদিবস, জরুরি হলে দ্রুত (২‑৩ দিনে বা কয়েক ঘণ্টায়) পাওয়া যায় ।
৪. ভিয়েতনাম দূতাবাস থেকে সরাসরি আবেদন
- সরাসরি ঢাকায় ভিয়েতনাম দূতাবাসে আবেদন করলে প্রয়োজন হতে পারে:
পাসপোর্ট + ওয়েন্ডিং/ফ্লাইট টিকেট, হোটেল বুকিং, এন্ট্রান্ট প্রকার উল্লেখিত আবেদন ফর্ম + ২টি ছবিসহ । - সময় লাগতে পারে: ৭‑১৫ কার্যদিবস। তাই অন্তত ২০ দিন আগে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয় ।
৫. জরুরি বা এক্সপ্রেস পরিষেবা
- অনেক অনলাইন পোর্টাল (যেমন VisaNow, VisaOnlineVietnam) এখন ৪ ঘণ্টা থেকে ২ কার্যদিবসে ই‑ভিসা বা VOA অনুমোদন পত্র দেয় ।
- তবে স্ট্যাম্প ফি ভিসা চার্জ আলাদাভাবে দিতে হয় এবং জরুরি পরিষেবা সাধারণ ফি’র তুলনায় বেশি হতে পারে ।
- উদ্বেগ এড়িয়ে নিয়মমাফিক আবেদন ফরম পূরণ এবং সময়মতো সঠিক নথি জমা দেওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক ও কম খরচে উপায়।
৬. নতুন ‘গোল্ডেন ভিসা’ পরিকল্পনা (দীর্ঘমেয়াদি)
- ২০২৫ সালে ভিয়েতনাম সরকার ৫ থেকে ১০ বছরের গোল্ডেন ভিসা চালু করছে, ৩ স্তরে:
১) ৫‑১০ বছরের ট্যুরিস্ট গোল্ডেন ভিসা,
২) ১০ বছরের ইনভেস্টর ভিসা (৫ বছরে স্থায়ী বাসিন্দার পথ),
৩) ৫ বছর মেয়াদী ট্যালেন্ট ভিসা — যা পেশাদারদের জন্য উপযোগী । - এই ভিসাগুলো প্রথমে পর্যটন হাবগুলোতে (Phú Quốc, হানোই, হো চি মিন, দা ਨং) পাইলটভাবে চালু হবে, ফলস্বরূপ দীর্ঘ সময়ের ভ্রমণ ও ইনভেস্টমেন্ট আরও সহজ হবে ।
ফাইনাল চেকলিস্ট 🇧🇩
| বিষয় | প্রয়োজনীয়তা |
|---|---|
| পাসপোর্ট | কমপক্ষে ৬ মাস বৈধ, দুইটি খালি পাতা |
| ছবি ফরম্যাট | সাদা পটভূমি, মুখ সামনে, JPG, 4×6 cm বা 2×2″ |
| আবেদন সময় | ই‑ভিসা: ২‑৭ কার্যদিবস, VOA অনুমোদন পত্র: ২‑৩ কার্যদিবস (জরুরিতে দ্রুত হয়) |
| আবেদন পদ্ধতি | ই‑ভিসা/VOA (অনলাইন), দূতাবাস (প্রথাগত) |
| স্ট্যাম্প ফি | USD ২৫ (একক), USD ৫০ (বহুমাত্রা) |
| জরুরি সেবা | দুই ঘণ্টা থেকে ৪ দিন পর্যন্ত দ্রুত প্রক্রিয়া |
| গোল্ডেন ভিসা | ৫‑১০ বছরের জন্য পরিকল্পনা চলছে, ২০২৫ এ ধাপে ধাপে চালু হবে |
লেখকের তথ্য
এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য ভিয়েতনাম ভিসা প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও সর্বশেষ তথ্য উপস্থাপন করতে। সকল তথ্য বাংলাদেশের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুলাই মাসে আপডেট করা হয়েছে।
পাঠকদের জন্য পরামর্শ:
ভ্রমণের পরিকল্পনায় গেলে আগে থেকেই ই‑ভিসা আবেদন করুন। প্রথমবারের মতো দলগত বা দীর্ঘমেয়াদি ভ্রমণের ক্ষেত্রে যদি গোল্ডেন ভিসা বা ইনভেস্টর ভিসা নিয়ে ভাবেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ও আধিকারিক সরকারি ওয়েবসাইট বা দূতাবাসের মাধ্যমে বিস্তারিত জানুন।



