পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ভারতের রুশ তেল আমদানি নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। নয়াদিল্লির ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে মোট শুল্ক দাঁড় করালেন ৫০ শতাংশে। তার অভিযোগ—ভারত সস্তায় রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনে যুদ্ধযন্ত্রকে ইন্ধন জোগাচ্ছে এবং ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার হত্যাযজ্ঞ বন্ধের আহ্বান উপেক্ষা করছে।
ট্রাম্প নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ভারত চীনের পাশাপাশি রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা। অন্য সবাই রাশিয়ার হত্যাযজ্ঞ বন্ধ চাইছে, কিন্তু ভারত উল্টো তাদের সমর্থন দিচ্ছে।
ফিনল্যান্ডভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) জানিয়েছে, রুশ তেলের সবচেয়ে বড় উপকারভোগী ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (আরআইএল)। মুকেশ আম্বানির নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছরে আমদানিতে বিপুলভাবে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ২০২১ সালে জামনগর শোধনাগারে রুশ তেলের অংশ ছিল মাত্র ৩ শতাংশ, কিন্তু ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই রিলায়েন্স আমদানি করেছে ১ কোটি ৮৩ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮৭০ কোটি ডলার। শুধু তাই নয়, এ শোধনাগার থেকে বিপুল পরিমাণ প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো রাশিয়া-নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোতে।
যুক্তরাষ্ট্রই paradoxically রিলায়েন্সের অন্যতম বড় ক্রেতা। ২০২৫ সালে দেশটি জামনগর থেকে ১৪০ কোটি ডলারের তেলজাত পণ্য আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি।
রিলায়েন্স ছাড়াও রুশ তেলের বড় আমদানিকারক হলো নায়ারা এনার্জি। তাদের ভাদিনার শোধনাগারে ২০২৫ সালে ব্যবহৃত অপরিশোধিত তেলের ৬৬ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে।
গবেষকরা বলছেন, ভারতের জন্য সস্তা তেল আমদানি অর্থনীতিকে সামাল দিয়েছে এবং বৈদেশিক ঘাটতি কমিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা আছে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তবের মতে, ট্রাম্প ভারতের ওপর চাপ দিলেও সবচেয়ে বড় রুশ তেল আমদানিকারক চীনের দিকে আঙুল তুলছেন না।
এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোষণা করেছে, আগামী জানুয়ারি থেকে রুশ তেল দিয়ে প্রক্রিয়াজাত পণ্য আমদানি বন্ধ করা হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে কার্যকর হলে রিলায়েন্সকে রপ্তানি কৌশল নতুন করে সাজাতে হবে।
রিলায়েন্স যদিও সম্প্রতি রাশিয়ার রসনেফটের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করেছে। নিষেধাজ্ঞা সে চুক্তিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
সূত্র: আল জাজিরা



