ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি হ্রাস: পর্যটন খাতেও প্রতিফলন, বিনিয়োগে শ্লথতা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: ২০২৫ সালের মে মাসে দেশের ব্যাংক খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি আরও কমে ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এক বছর আগেও যেখানে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ, সেখানে চলতি বছরের ধারাবাহিক নিম্নমুখী প্রবণতা শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, পর্যটনসহ সার্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমানতের প্রবৃদ্ধি না বাড়ার পেছনে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ট্রেজারি বিল-বন্ডে উচ্চ সুদ, সীমিত আয়, ব্যবসা সম্প্রসারণে স্থবিরতা ও বেকারত্ব বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। ঢাকার ব্যাংকিং ও পর্যটন সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এতে পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার অর্থ হলো বাজারে অর্থের সরবরাহ হ্রাস পাওয়া। ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ জানান, “অনেক বিনিয়োগকারী ব্যাংক থেকে ঋণ না নিয়ে সরকারি বিল-বন্ডে অর্থ ঢালছেন, কারণ সেখানে সুদ বেশি। এতে করে নতুন প্রকল্প বিশেষ করে হোটেল, রিসোর্ট বা পর্যটন পরিবহন খাতে তেমন ঋণ যাচ্ছে না।”

বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও আয় না বাড়ার কারণে সাধারণ মানুষ সঞ্চয় করতে পারছে না। ফলে ব্যাংকে জমা অর্থ কমছে, যার প্রভাব পড়ছে পর্যটনের মতো সেক্টরে নতুন উদ্যোগে। পর্যটন খাত এখন মূলত ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও মৌসুমি আয় নির্ভর হয়ে পড়েছে।”

পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, ব্যাংকে আমানত কমে যাওয়ায় ঋণ পাওয়া কঠিন হচ্ছে। কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন ও বান্দরবানের হোটেল ব্যবসায়ীরা নতুন মৌসুম সামনে রেখে রিনোভেশন বা সম্প্রসারণ কাজ করতে পারছেন না।

এনআরবি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক রিয়াজ খান জানান, “মূল্যস্ফীতি ও আয় সংকোচনের কারণে পর্যটন উদ্যোক্তারা ব্যাংকের কাছে আবেদন করলেও ঝুঁকি বিবেচনায় ঋণ ছাড়ে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে পর্যটন উন্নয়নে প্রভাব পড়ছে।”

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আমানতের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনতে হবে। টাকার সঞ্চালন বাড়লে তা ব্যাংকে আমানত হিসেবে জমা হবে এবং পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে পুনরায় বিনিয়োগ শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এরই মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রচুর পরিমাণে ডলার পাচার হওয়ায় ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো আমানতে উচ্চ সুদ দিলেও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি পাচ্ছে না।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাস শেষে ব্যাংকগুলোতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধির দিক থেকে হতাশাজনক।

পর্যটন খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে ব্যাংক আমানত ও ঋণের প্রবাহ পুনরুদ্ধার জরুরি। তা না হলে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত পর্যটন অর্থনৈতিক স্থবিরতায় ধুঁকতে থাকবে।

Read Previous

বৃষ্টিমুখর ঢাকায় দিন শুরু, ভিজে যেতে পারে শহরের পর্যটন স্পটগুলো

Read Next

পরিবেশবান্ধব ব্যাংকিংয়ে এগিয়ে দেশি ব্যাংকগুলো: টেকসই উন্নয়নে অনুকরণীয় ভূমিকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular