
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। পর্যটন সংবাদ: মার্কিন বিমান নির্মাতা জায়ান্ট বোয়িং ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘদিনের সংকট ও কড়া নজরদারির পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) ৭৩৭ ম্যাক্স ও ৭৮৭ ড্রিমলাইনারের জন্য আংশিকভাবে নিরাপত্তা সনদ প্রদানের অনুমতি দিয়েছে। এই খবরে গত শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ওয়াল স্ট্রিটে বোয়িংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে যায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ মাসের কঠোর মূল্যায়নের পর এফএএ এখন বোয়িংকে প্রতি দুই সপ্তাহে একবার বিমান ওড়ার উপযুক্ততার সনদ দেওয়ার অনুমতি দিচ্ছে। তবে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখনো সংস্থার হাতে থাকবে। এফএএ স্পষ্ট করেছে, “নিরাপত্তাই মূল অগ্রাধিকার” এবং পরিবর্তন সত্ত্বেও বোয়িংয়ের উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কড়া নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
দুর্ঘটনা আর সংকটের ইতিহাস
২০১৯ সালে লায়ন এয়ার ও ২০২২ সালে ইথিওপিয়ান এয়ারের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা—এই দুই ট্র্যাজেডিই বোয়িংয়ের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এরপর ২০২৪ সালে ৭৩৭ ম্যাক্সের দরজার প্লাগ ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে বিতর্কে পড়ে কোম্পানিটি। টানা ২০ মাস ধরে বিভিন্ন মডেল স্থগিত হয়ে থাকার ফলে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বোয়িংয়ের ক্ষতি দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে
কঠিন সময় পেরিয়ে আসার পর নতুন চুক্তি ও অর্ডারে আবারও আলোচনায় বোয়িং। সম্প্রতি টার্কিশ এয়ারলাইনস, নরওয়েজিয়ান গ্রুপ, ইন্দোনেশিয়া ও জাপান শত শত বিমান কেনার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছ থেকেও বড় অর্ডার পেয়েছে কোম্পানিটি। এমনকি পাল্টা শুল্ক আলোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশও বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সামনে কী
বিশ্লেষকদের মতে, এফএএর আংশিক ছাড় ও ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক অর্ডার বোয়িংয়ের জন্য ব্যবসায়িক পুনরুদ্ধারের সংকেত। তবে গত কয়েক বছরের ব্যর্থতা ও নিরাপত্তা ঘিরে বিতর্ক বিবেচনায় নিলে কোম্পানির সামনে চ্যালেঞ্জ এখনো বড়।
বাজারে ইতিবাচক ধারা ফিরলেও নিরাপত্তা ও উৎপাদন মানে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে না পারলে পুরোনো সংকট আবারও ফিরে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



