১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাসা থেকেই পাসপোর্ট! ঘরে বসেই ই-পাসপোর্ট আবেদন, জেনে নিন ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক:  বিদেশ ভ্রমণ কিংবা কাজ বা পড়াশোনার প্রয়োজনে প্রথম যে নথির প্রয়োজন হয়, তা হলো—পাসপোর্ট। এক সময় এ জন্য অফিসে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হতো, ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে নানারকম ঝক্কি পোহাতে হতো। তবে এখন প্রযুক্তির কল্যাণে পুরো আবেদন প্রক্রিয়া হয়ে গেছে অনেক সহজ ও অনলাইনভিত্তিক।

বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ই-পাসপোর্ট চালু করেছে, যা আগের এমআরপি বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। আপনি চাইলে ঘরে বসেই সহজে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন।

চলুন দেখে নিই, কীভাবে আপনি নিজেই ধাপে ধাপে বাসা থেকে ই-পাসপোর্ট আবেদন করতে পারবেন—

ধাপ ১: ই-পাসপোর্ট নাকি এমআরপি—কোনটা নেবেন?

বর্তমানে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে, যাতে আছে বায়োমেট্রিক তথ্য, উন্নত সুরক্ষা প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা।
পরামর্শ: আপনি যদি নতুন আবেদনকারী হন, তাহলে অবশ্যই ই-পাসপোর্ট বেছে নিন।

ধাপ ২: সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

সরকারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে ভিজিট করুন—
https://www.epassport.gov.bd

ধাপ ৩: একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন

১. ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Apply Online’ এ ক্লিক করুন।
২. আপনার পছন্দের পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করুন।
৩. নাম, মোবাইল নম্বর ও ই-মেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
৪. ই-মেইলে একটি ভেরিফিকেশন লিংক আসবে—সেটি ক্লিক করে অ্যাকাউন্টটি অ্যাক্টিভ করুন।

ধাপ ৪: অনলাইন আবেদন ফর্ম পূরণ করুন

  • লগইন করে ‘New Application’ সিলেক্ট করুন।
  • আপনার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও যোগাযোগের তথ্য দিন।
  • পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮ বা ৬৪) ও মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর) নির্বাচন করুন।
  • ছবি (৩০০ কেবি’র মধ্যে, JPEG ফরম্যাট) এবং স্বাক্ষর আপলোড করুন।
    বিশেষ টিপস: আপনার সব তথ্য যেন জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মসনদের সঙ্গে মিল থাকে, তা নিশ্চিত করুন।

ধাপ ৫: আবেদন ফি পরিশোধ করুন

আপনার আবেদন ধরন অনুযায়ী (সাধারণ, জরুরি, অতিজরুরি) একটি নির্ধারিত ফি দেখানো হবে।

ফি পরিশোধের মাধ্যম:

  • বিকাশ, নগদ, রকেট
  • ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড
  • সোনালী ব্যাংকের অনলাইন গেটওয়ে

পরামর্শ: ট্রানজেকশন রসিদ সংরক্ষণ করে রাখুন।

ধাপ ৬: বায়োমেট্রিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করুন

ফি পরিশোধের পর আপনি আপনার সুবিধামতো তারিখ ও অফিস নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন।
আবেদন সারাংশ ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ প্রিন্ট করে রাখুন।

ধাপ ৭: নির্ধারিত তারিখে অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিন

সঙ্গে যা যা নিতে হবে:

  • প্রিন্ট করা আবেদন ফর্ম
  • পেমেন্ট রসিদ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্মসনদ (মূল ও ফটোকপি)
  • পুরোনো পাসপোর্ট (যদি থাকে)
  • অন্যান্য প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট

অফিসে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ এবং কাগজ যাচাইয়ের কাজ হবে এদিন।

ধাপ ৮: আবেদন স্ট্যাটাস ট্র্যাক করুন

https://www.epassport.gov.bd/landing/status
এ লিংকে গিয়ে আপনার আবেদন কোথায় আছে তা সহজেই জানতে পারবেন।

এসএমএস বা ই-মেইলের মাধ্যমেও আপডেট পাবেন।

ধাপ ৯: পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন

যখন পাসপোর্ট প্রস্তুত, তখন নির্ধারিত অফিসে গিয়ে তা সংগ্রহ করুন।
নিয়ে যান:

  • ডেলিভারি স্লিপ
  • জাতীয় পরিচয়পত্র
    কিছু এলাকায় হোম ডেলিভারির সুবিধাও রয়েছে, তবে তা এখনও সীমিত।

জরুরি পরামর্শ:

  • সব তথ্য যেন সঠিক হয়। ভুল থাকলে পাসপোর্ট আটকে যেতে পারে।
  • ছবির মান যেন অফিসিয়াল গাইডলাইন অনুযায়ী হয় (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড, মুখে হাসি নয়)।
  • শিশুর ক্ষেত্রে জন্মসনদ ও বাবা-মায়ের আইডি প্রয়োজন।
  • সব রসিদ ও কাগজের কপি সংরক্ষণ করে রাখুন।

Read Previous

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো স্টারলিংক: দুর্গম অঞ্চলে ইন্টারনেট সেবার নতুন দিগন্ত

Read Next

কান্তজী মন্দির: দিনাজপুরের ঐতিহ্যে মোড়ানো শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular