
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বান্দরবান মানেই পাহাড়, সবুজ, ঝরনা আর অফুরন্ত রোমাঞ্চ। এবার ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণ করছে তুলনামূলক কম পরিচিত একটি পাহাড়— মাইতা তৈম। স্থানীয় মারমা ভাষায় “মাইতা তৈম” অর্থ পাহাড়ের মাথায় সূর্যের আলো। নামের মতোই পাহাড়টির সৌন্দর্য অসাধারণ।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে বান্দরবান বাসে সহজেই যাওয়া যায়। বান্দরবান শহর থেকে স্থানীয় জিপ বা চাঁদের গাড়িতে করে যেতে হবে রোয়াংছড়ি হয়ে থানচি অভিমুখে। থানচি বাজার থেকে স্থানীয় গাইড নিয়ে ট্রেক শুরু করতে হয়। যেহেতু এটি সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকা, তাই পথিমধ্যে বেশ কয়েকটি চেকপোস্টে সেনাবাহিনীকে তথ্য জমা দিতে হবে। এজন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি অবশ্যই সাথে রাখতে হবে।
ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ—শীতকাল মাইতা তৈম ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়। বর্ষাকালে পাহাড়ি পথ কাদা ও পিচ্ছিল হয়ে বিপদজনক হয়ে ওঠে। শীতের সকালে কুয়াশা আর দুপুরের রোদে পাহাড়ের রং বদলের দৃশ্য ভ্রমণকে করবে স্মরণীয়।
মাইতা তৈম ট্রেকিং অভিজ্ঞতা
থানচি থেকে গাইডসহ যাত্রা শুরু করলে ঘন সবুজ পাহাড়ি বনের মধ্য দিয়ে সরু আঁকাবাঁকা পথে হাঁটতে হবে। ট্রেকের সময় স্থানীয় পাহাড়ি গ্রাম, ঝরনা আর অজস্র ছোট পাহাড় চোখে পড়বে। প্রায় ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার পর্বতারোহণ শেষে মাইতা তৈমের শীর্ষে পৌঁছানো যায়। চূড়া থেকে একসাথে দেখা যায় অসংখ্য সবুজ পাহাড়, দূরের নীলগিরির আভাস, আর সোনালি সূর্যাস্ত। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হবে, আপনি মেঘের রাজ্যে দাঁড়িয়ে আছেন।
যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে
- স্থানীয় গাইড ছাড়া ট্রেকিংয়ে যাওয়া ঠিক নয়।
- প্রতিটি চেকপোস্টে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হয়, তাই আগেই কয়েক কপি তৈরি করে নিন।
- পাহাড়ি পথ দুর্গম, তাই হালকা ব্যাগ, মজবুত জুতা ও পর্যাপ্ত পানি সঙ্গে রাখুন।
- আবহাওয়া দ্রুত বদলায়, তাই রেইনকোট বা হালকা গরম কাপড় রাখতে ভুলবেন না।
- ভ্রমণের সময় প্রকৃতি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।
বান্দরবানের মাইতা তৈম এখনো অনেকটাই অজানা এক পাহাড়। তাই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষত রয়েছে। যদি পাহাড়ে হাঁটতে ভালোবাসেন, ভ্রমণে কষ্ট সহ্য করতে পারেন, তবে মাইতা তৈম আপনার জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হবে।



