২০/০৬/২০২৬
৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল অচল: স্বাস্থ্যসেবায় চরম ভোগান্তি

পর্যাটন সংবাদ ডেস্ক: ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা এখনও নাগালের বাইরে। সাত বছর আগে শুরু হওয়া ৯ তলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হলেও লিফট, বিদ্যুৎ ও যন্ত্রপাতি না থাকায় ভবনটি কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে।

২০১৮ সালে ২৫০ শয্যা হাসপাতালে রূপান্তরের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। যদিও জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের তৎকালীন সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু তড়িঘড়ি করে হাসপাতালটি উদ্বোধন করেছিলেন, তবে দুই বছর কেটে গেলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি।

চিকিৎসক সংকটে রোগীদের বরিশাল পাঠানো হচ্ছে

বর্তমানে হাসপাতালের জন্য ১৬ জন মেডিকেল অফিসারের অনুমোদন থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। ফলে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগ চালাতে হচ্ছে মাত্র দুজন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে। সামান্য জটিলতা দেখা দিলেই রোগীদের বরিশালে পাঠানো হচ্ছে।

মেডিকেল কলেজ হাতছাড়া

২০১১ সালে একনেক সভায় ঝালকাঠিতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের অনুমোদন হলেও পরে তা পিরোজপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয়রা মনে করেন, এ সিদ্ধান্তে ঝালকাঠিবাসীর আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

রোগীদের ক্ষোভ

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মিনারা বেগম বলেন, “এখানে চিকিৎসা ঠিকমতো মেলে না, প্রেসক্রিপশনের ওষুধও বাইরে থেকে কিনতে হয়।”
রাজাপুর থেকে আসা হরমুজ মৃধা অভিযোগ করে বলেন, “যন্ত্রপাতি নেই, ডাক্তার নেই। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দালালের মাধ্যমে বাইরে ক্লিনিকে যেতে হয়।”

নাগরিকদের অভিযোগ

ঝালকাঠি নাগরিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর আহম্মেদ অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থ ও কমিশন বাণিজ্যের কারণে হাসপাতালের উন্নয়নকাজ থমকে গেছে। টিআইবি সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি সত্যবান সেনগুপ্ত বলেন, “মেডিকেল কলেজ হাতছাড়া, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল অচল, ডাক্তার ও যন্ত্রপাতির সংকট—সব মিলিয়ে ঝালকাঠির স্বাস্থ্যসেবা এখন মারাত্মক সংকটে।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমান উল্লাহ সরকার বলেন, “মূল সমস্যা লিফট স্থাপন। বাজেট কম থাকায় প্রক্রিয়া আটকে আছে, অনুমোদন পেলেই টেন্ডার হবে।”
ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, “লিফট ও বিশেষায়িত চিকিৎসক সংকট থাকায় ভবন চালু করা যাচ্ছে না। তবে যতটা সম্ভব চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”

দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি আর প্রকল্পের আশায় ঝালকাঠিবাসী অপেক্ষা করলেও বাস্তবে স্বাস্থ্যসেবা আরও ভেঙে পড়ছে। আধুনিক হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের স্বপ্ন ভেঙে গিয়ে এখন ন্যূনতম চিকিৎসার জন্যও রোগীদের বরিশালমুখী হতে হচ্ছে।

Read Previous

বান্দরবানের মাইতা তৈম: অদ্ভুত সুন্দর পাহাড়ি ট্রেকিংয়ের নতুন গন্তব্য

Read Next

ভোমরা বন্দর দিয়ে তিন দিনে দুই হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি, বাজারে স্বস্তি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular