
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক তিন গভর্নর, চার ডেপুটি গভর্নর এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বড় পরিসরে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ব্যাংক দখল, অর্থ লোপাট ও অতিরিক্ত টাকা ছাপিয়ে বিতরণের অভিযোগে তাদের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তদন্তের আওতায় স্ত্রী, সন্তান, পুত্রবধূ ও জামাতাসহ পরিবারের সদস্যদের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত।
বিএফআইইউ সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) জানান, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা এবং দুদকের অনুরোধে দেশের সব ব্যাংকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে থাকা এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক খাতের অনিয়ম, ব্যাংক দখলের মাধ্যমে লুটপাট এবং ঋণ বিতরণের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ রয়েছে।
যাদের হিসাব তলব করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান, ফজলে কবির ও আব্দুর রউফ তালুকদার। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফজলে কবিরের সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর দখল নিয়ে লুটপাট শুরু হয় এবং আব্দুর রউফ তালুকদারের মেয়াদে টাকা ছাপিয়ে ঋণ বিতরণের মাধ্যমে ব্যাপক অর্থ লোপাটের সুযোগ তৈরি হয়।
তদন্তের আওতায় থাকা সাবেক ডেপুটি গভর্নররা হলেন এস কে সুর চৌধুরী, এস এম মনিরুজ্জামান, কাজী ছাইদুর রহমান ও আবু ফরাহ মো. নাছের। এর মধ্যে এস কে সুর চৌধুরী বর্তমানে দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি। এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, আর আবু ফরাহ মো. নাছেরের বিরুদ্ধে নীতিমালা শিথিল করে বিশেষ সুবিধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া, বিএফআইইউর সাবেক প্রধান আবু হেনা মো. রাজী হাসান এবং মো. মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। মাসুদ বিশ্বাস বর্তমানে দুর্নীতি মামলায় কারাগারে আছেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।
ব্যাংকগুলোর কাছে সব সংশ্লিষ্ট হিসাব, লেনদেন বিবরণী, হিসাব খোলার ফরম, পরিচয়পত্র এবং বন্ধ থাকা হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। আর্থিক খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়মের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের এক বছর পর এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই এ ধরনের তদন্ত শুরু হলো।



