
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: সাঁই সাঁই করে ছুটে চলা গাড়ি, মেঘের রাজ্যে হাত বাড়িয়ে ছোঁয়ার অভিজ্ঞতা—এ যেন কোনো স্বপ্নপুরীর পথ। পাহাড় ঘেরা সর্পিল সড়ক পেরিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায় বাংলাদেশেই, দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকাগুলোতে।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার পূর্বপ্রান্তে, মিয়ানমার সীমান্তসংলগ্ন বঙ্কুপাড়া এলাকায় সম্প্রতি নির্মিত সীমান্ত সড়ক এসব নতুন অভিজ্ঞতার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় তিন হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই এলাকাটি যেন মেঘের রাজ্য। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত সড়কটি শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেই নয়, পর্যটনেরও বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করছে।
একইরকম মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যায় রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলার সাইচল এলাকায়। রাজস্থলী উপজেলা সদর থেকে সীমান্ত সংযোগ সড়ক দিয়ে ফারুয়া হয়ে তিন ঘণ্টার পথ পেরোলেই দেখা মেলে পাহাড়ঘেরা নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য। আগে যেখানে স্থানীয়দের পায়ে হেঁটে দিনভর হাঁটতে হতো, সেখানে এখন সড়কপথে কয়েক ঘণ্টাতেই পৌঁছানো যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুর্গম অঞ্চলগুলোর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভারতের দার্জিলিং বা শিলংয়ের তুলনায় কোনো অংশে কম নয়। সম্প্রতি এই সড়কগুলো ঘুরে দেখা পর্যটক জমির উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের সীমান্ত সড়কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাশ্মিরের চেয়েও বেশি মনকাড়া। যদি পরিকল্পিতভাবে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা যায়, তবে এই রুট আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য বড় আকর্ষণ হয়ে উঠবে।”
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০ ইসিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসিফ আহমেদ তানজিল জানিয়েছেন, “সীমান্ত সড়ক শুধু উন্নয়ন নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের অপার সৌন্দর্য উন্মোচনের নতুন দ্বার।”
৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামছুল আলম বলেন, “প্রথমদিকে সাজেকও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, কিন্তু এখন এটি একটি নিরাপদ ও জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। একইভাবে সীমান্ত সড়কের সম্ভাব্য স্পটগুলো পর্যটনের জন্য উন্নয়ন করা সম্ভব। এ সড়ক দিয়ে পর্যটকরা ফেনী থেকে রামগড়, তারপর তিন পার্বত্য জেলা ঘুরে কক্সবাজার পৌঁছাতে পারবেন।”
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতোমধ্যে সম্ভাব্য নতুন পর্যটন স্পট চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটির পরিচালক সালেহা বিনতে সিরাজ জানিয়েছেন, “রাঙ্গামাটির সাজেকে শিগগিরই একটি বৈঠক হবে, যেখানে সেনাবাহিনী ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য পর্যটন স্পট নিয়ে আলোচনা করা হবে।”
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরাপদ যাতায়াত, এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে সীমান্ত সড়ক ঘিরে গড়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের নতুন পর্যটন অধ্যায়। প্রয়োজন শুধু সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সুপরিকল্পিত উদ্যোগের।



