
ছবি : সংগৃহীত
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রতি আস্থা আর সম্ভাবনা—দুটোকেই সামনে রেখে মালয়েশিয়া ভিজিট মালয়েশিয়া ইয়ার ২০২৬–এর অংশ হিসেবে নতুন লক্ষ্য ঘোষণা করেছে। দেশটি আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে ৩ লক্ষ পর্যটক আকর্ষণ করতে চায়। রাজধানীতে আয়োজিত মালয়েশিয়া পর্যটন মেলা ও ‘মালয়েশিয়া ২০২৬’ প্রচারণা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেশটির হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওথমান এই লক্ষ্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ এখন মালয়েশিয়ার শীর্ষ ভ্রমণ বাজারগুলোর একটি
হাইকমিশনার স্পষ্ট জানালেন—বাংলাদেশ শুধু গুরুত্বপূর্ণ নয়, দ্রুত বর্ধনশীল পর্যটন বাজারও। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই জনপ্রিয় গন্তব্যে এখনকার পর্যটন পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনার মূল অংশ হচ্ছে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের আরও বেশি টার্গেট করা।
তার ভাষায়, “বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী পর্যটন বাজার। আমরা চাই ২০২৬ সালকে দুই দেশের পর্যটন বন্ধনের নতুন অধ্যায় হিসেবে গড়ে তুলতে।”
বিশেষ করে মালয়েশিয়ার সমুদ্র সৈকত, থিম পার্ক, পরিবারবান্ধব ভ্রমণ সুবিধা, স্বাস্থ্য পর্যটন, এবং শিক্ষা ভ্রমণের প্রতি বাংলাদেশিদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে—এটিও তিনি তুলে ধরেন।
ই-ভিসা নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে কঠোর বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে অনেক ভ্রমণকারী অননুমোদিত এজেন্ট বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ই-ভিসা আবেদন করে জটিলতায় পড়েছেন। কেউ কেউ বিমানবন্দর থেকে ফেরতও গেছেন, যা স্বাভাবিকভাবেই ভ্রমণকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এ বিষয়ে হাইকমিশনার খুব স্পষ্টভাবে বলেন—
- মালয়েশিয়ার অফিসিয়াল ই-ভিসা সিস্টেম পুরোপুরি সোজা এবং পদ্ধতিগত
- সমস্যা তৈরি হয় মূলত তৃতীয় পক্ষের ভুল বা অসঙ্গতিতে
- কিছু ক্ষেত্রে কালো তালিকাভুক্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে
তাই তিনি অনুরোধ করেন যেন আবেদনকারীরা শুধুমাত্র অফিসিয়াল ই-ভিসা পোর্টাল ব্যবহার করেন, যার লিংক নিয়মিত হাইকমিশনের ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়।
এ ছাড়া সাহায্যের প্রয়োজন হলে সরাসরি হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভ্রমণ সম্পূর্ণ ঝামেলামুক্ত থাকে।
‘মালয়েশিয়া ট্রুলি এশিয়া’—নতুন করে সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার উদ্যোগ
মালয়েশিয়ার বহুসংস্কৃতির ঐতিহ্য, খাবার, শিল্প আর আতিথেয়তা—এই সবকিছুই সামনে আনার জন্য শুরু হলো নতুন প্রচারণা ‘মালয়েশিয়া ট্রুলি এশিয়া – ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’।
এই প্রচারণার লক্ষ্য শুধু ভ্রমণকারীর সংখ্যা বাড়ানো নয়। বরং দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গভীর করা, নতুন ভ্রমণ প্যাকেজ তৈরি করা এবং পরিবারভিত্তিক পর্যটন আরও শক্তিশালী করা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, মালয়েশিয়া ট্যুরিজম বোর্ড এবং ইভেন্টের সহযোগী অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ঢাকায় জমকালো মালয়েশিয়া পর্যটন মেলা
এই আয়োজনে মোট ২২টি সংস্থা অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল—
- বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বিমান সংস্থা
- মালয়েশিয়ান ট্যুর অপারেটর
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
- মেডিকেল সেন্টার ও স্বাস্থ্য পর্যটন সেবা প্রদানকারী
- ভ্রমণ প্যাকেজ প্রদানকারী সংস্থা
মেলায় বাংলাদেশি দর্শনার্থীরা সরাসরি ডিসকাউন্ট প্যাকেজ, শিক্ষাভ্রমণ তথ্য, চিকিৎসা সেবা ও ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছেন।
বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়া আবারও শীর্ষ গন্তব্য
মালয়েশিয়ার এই নতুন লক্ষ্য স্পষ্ট করে দেয় যে বাংলাদেশি পর্যটকদের মূল্যায়ন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। পরিবারভিত্তিক ফ্লাইট, সাশ্রয়ী ভ্রমণ ব্যয়, সহজ ই-ভিসা এবং মালয়েশিয়ার পর্যটন পরিকাঠামোর শক্ত অবস্থান—সব মিলিয়ে মালয়েশিয়া সহজেই বাংলাদেশের শীর্ষ আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
মসৃণ ভ্রমণ অভিজ্ঞতাই ২০২৬ ক্যাম্পেইনের মূল ফোকাস
এই পুরো ক্যাম্পেইনের কেন্দ্রবিন্দু হলো—
বাংলাদেশি পর্যটকদের যাত্রা যেন হয় দ্রুত, ঝামেলামুক্ত এবং নিরাপদ।
অফিসিয়াল ই-ভিসা সিস্টেম, হাইকমিশনের সক্রিয় সহায়তা, বেশি ফ্লাইট কানেকশন, এবং ভ্রমণ প্যাকেজে বিশেষ অফার—এসব মিলিয়ে মালয়েশিয়া ২০২৬ সালকে দুই দেশের পর্যটন বন্ধনের বড় একটি সময় হিসেবে দেখতে চায়।



