
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: একের পর এক অভিযোগে ঘেরা বরিশাল বিভাগীয় সদ্য সাবেক বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারী এবার স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েছেন। ১৭টি বিয়ের অভিযোগের পর সাময়িক বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তাকে গতকাল রাতে মালামালসহ পালানোর সময় ঘেরাও করেন ঠিকাদার ও পাওনাদাররা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরখাস্তের পর কবির হোসেনকে রংপুর বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু তিনি রাতের অন্ধকারে কাশিপুর বন বিভাগের সরকারি কোয়ার্টার থেকে ট্রাকে মালামাল উঠিয়ে বরিশাল ছাড়তে চেয়েছিলেন। খবর পেয়ে কয়েকজন ঠিকাদার ও ব্যবসায়ী সেখানে উপস্থিত হয়ে বাঁধা দেন। এসময় তীব্র হট্টগোল শুরু হয়।
অভিযোগকারীরা জানান, কবির হোসেন বিভিন্ন সময় তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ধার নিয়েছেন, কিন্তু ফেরত দেননি। নগরীর এক ব্যবসায়ী রুবেল বলেন, “আমার কাছ থেকে কাজ করিয়ে ৯ হাজার ৫ টাকা বকেয়া রেখেছেন।” একইভাবে ইউনিক থাই গ্লাস অ্যান্ড মেটাল সেন্টারের মালিকের কাছে বকেয়া আছে এক লাখ ৬১ হাজার টাকা।
বরিশাল সদর ফরেস্টার আবু সুফিয়ান সাকিব দাবি করেন, ব্যক্তিগতভাবে তার কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা ধার নিয়েছিলেন কবির হোসেন, যা এখনও পরিশোধ করা হয়নি।
এসময় অভিযুক্ত কর্মকর্তা নিজের বাংলোয় অবস্থান নেন। পালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের সামনে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন তিনি, উল্টো বিরক্তি প্রকাশ করেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ওসি আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের অভিযোগ মেলেনি। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।”
উল্লেখ্য, এর আগে বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফিজ আহমেদ বাবলু বন কর্মকর্তা কবির হোসেন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।



