১৭/০৪/২০২৬
৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশ ভেরিফিকেশন ছাড়াই ই-পাসপোর্ট: ২০২৫ সালে অনলাইনে আবেদন করার সম্পূর্ণ নতুন নির্দেশনা

ফাইল ছবি

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক : বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, সহজ আর ঝামেলাহীন করতে ২০২৫ সালে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলো—এখন আর নতুন পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন দরকার হয় না। এতে সারাদেশে আবেদনকারীর অপেক্ষার সময় কমছে, অফিসের চাপও হালকা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হলো একটি নির্ভরযোগ্য, আধুনিক এবং দ্রুতগতির পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করা।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (DIP) অনলাইন পোর্টাল epassport.gov.bd পুরো প্রক্রিয়াটিকে এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল করে পরিচালনা করছে। বাড়ি থেকে আবেদন শুরু করে বায়োমেট্রিক দেওয়া পর্যন্ত সব ধাপেই আগের তুলনায় গতি এসেছে। এখানে ২০২৫ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট পেতে কী করতে হবে, কোন নথি লাগবে, কত খরচ পড়বে—সবকিছু সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।

কোন ধরনের পাসপোর্ট এখন ইস্যু হয়

বাংলাদেশ এখন শুধু ই-পাসপোর্ট ইস্যু করে। এতে থাকে একটি সিকিউরিটি চিপ, উন্নত বায়োমেট্রিক ডেটা এবং আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ভ্রমণ, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ইমিগ্রেশন প্রসেস—সবক্ষেত্রেই এটি পুরনো এমআরপি পাসপোর্টের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য।

অনলাইনে আবেদন শুরু করার আগে যেগুলো যাচাই করবেন

ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে গেলে আপনার তথ্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধনের সাথে মিলতে হবে। এখানে একটু গড়মিল থাকলে আবেদন আটকে যেতে পারে, তাই আগে থেকেই নিশ্চিত হয়ে নিন:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
  • অথবা ইংরেজি সংস্করণে ১৭-সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন সনদ (BRC)
  • বিদেশে জন্ম নেওয়া বা শিশুদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম
  • প্রয়োজনে everify.bdris.gov.bd–এ গিয়ে আপনার BRC অনলাইনে ভেরিফাই করা যায়

পুরনো জন্ম সনদ বা হাতে লেখা নথি আগেই সংশোধন করে নিন, কারণ আবেদন জমা দেওয়ার পর এগুলো ঠিক করতে গেলে বাড়তি ঝামেলা হয়।

অনলাইনে আবেদন কীভাবে করবেন

১. প্রথমে যান epassport.gov.bd/onboarding ঠিকানায়।
২. আপনার এলাকার পাসপোর্ট অফিস অনলাইনে সেবা দিচ্ছে কিনা তা সাইট থেকেই চেক করতে পারবেন।
৩. আবেদন ফর্ম পূরণ করার সময় নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের ইংরেজি নামসহ সব তথ্য NID/BRC অনুযায়ী লিখুন।
৪. ফর্ম সাবমিট করার পর একটি বারকোডসহ সারাংশ (summary) পেয়ে যাবেন—এটি অবশ্যই প্রিন্ট করবেন।

এই সারাংশ পাতা ছাড়া কোনো অফিস আপনাকে বায়োমেট্রিক নিতে দেবে না।

যে নথিগুলো সাথে নিতে হবে

বায়োমেট্রিক দিতে গেলে নিচের নথিগুলো হাতে রাখুন:

  • মূল জাতীয় পরিচয়পত্র বা BRC
  • ঠিকানার প্রমাণ (বিদ্যুৎ/গ্যাস বিল, হল কার্ড ইত্যাদি)
  • পেমেন্ট স্লিপ (যদি অফলাইন পেমেন্ট করা হয়)
  • নবায়নের ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট
  • হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে জিডি রিপোর্ট
  • বিবাহ বা বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত নথি (যদি তথ্য পরিবর্তন হয়)
  • সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এনওসি
  • শিক্ষার্থীদের জন্য বৈধ আইডি বা পরীক্ষার সনদ
  • ৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ৩.৫×৫ ইঞ্চি রঙিন ছবি

ফিও বদলেছে—এখন কত খরচ পড়বে

২০২৫ সালের ফি কাঠামো এমন:

৪৮ পৃষ্ঠা পাসপোর্ট (৫ বছর মেয়াদ)

  • সাধারণ ডেলিভারি: প্রায় ৪,০০০ টাকা
  • এক্সপ্রেস: ৬,০০০ টাকা
  • সুপার এক্সপ্রেস: ৮,০০০ টাকা

৪৮ পৃষ্ঠা (১০ বছর মেয়াদ)

  • নিয়মিত: প্রায় ৫,৭০০ টাকা

৬৪ পৃষ্ঠা পাসপোর্ট

বড় সাইজ হওয়ায় দামও বেশি, দ্রুততম সেবায় খরচ ১৩,৮০০ টাকা পর্যন্ত যায়।

সময় লাগবে সাধারণত:

  • সাধারণ: ১৫ দিন
  • এক্সপ্রেস: ৭–১০ দিন
  • সুপার এক্সপ্রেস: প্রায় ২ দিন

বিদেশে আবেদন করলে সাধারণ ডেলিভারিতে সময় লাগে প্রায় ৪৫ দিন।

পেমেন্ট কীভাবে করবেন

অনলাইনে পেমেন্ট করতে পারেন

  • ভিসা
  • মাস্টারকার্ড
  • বিকাশ
  • নগদ
    সবই ekpay সিস্টেমের মাধ্যমে।

বিদেশে অনলাইনে পেমেন্ট নেই; সেখানে মানি অর্ডার, চেক বা কার্ড ব্যবহার করতে হয়।

একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম—প্রতি ব্যক্তি একবারই পেমেন্ট করতে পারবেন, ভুল করে পাঠালে ফেরত দেওয়া হয় না।

বায়োমেট্রিকের সময় যেসব ব্যাপার মাথায় রাখবেন

এখানে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়, তাই সকালে গেলেও কখন শেষ করবেন তা বলা কঠিন। অনেকে ১০টার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে সন্ধ্যার আগে বের হতে পারেন না।

  • সাদা বা কালো পোশাক না পরাই ভালো—ছবির জন্য অস্বীকৃতি আসতে পারে
  • নথিগুলো ডিজিটাল এবং প্রিন্ট দুইভাবেই রাখুন
  • বারবার কাউন্টার বদলাতে হতে পারে, তাই নির্দেশনা বোর্ড ভালো করে দেখুন
  • হালকা খাবার, পানি এবং সময়—এই তিনটি প্রস্তুত রাখুন

বায়োমেট্রিক সম্পন্ন হলে একটি রিসিপ্ট পাবেন এবং এখান থেকেই শুরু হবে আপনার পাসপোর্ট তৈরির কাউন্টডাউন।

স্ট্যাটাস ট্র্যাক ও পাসপোর্ট সংগ্রহ

স্ট্যাটাস জানতে আবেদন আইডি ও জন্মতারিখ দিয়ে অনলাইনেই চেক করতে পারবেন। সব ঠিক থাকলে ২০ দিনের মধ্যেই আপনার পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়ে যাবে।

সংগ্রহের সময় যা লাগবে:

  • বায়োমেট্রিকের রিসিপ্ট
  • প্রিন্ট করা সারাংশ
  • প্রয়োজনীয় নথির কপি

পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বিমানবন্দরে যা প্রয়োজন

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ যেকোনো ইমিগ্রেশনে আপনাকে দেখাতে হয়:

  • বৈধ ই-পাসপোর্ট
  • অন্তত দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা
  • ক্ষতিগ্রস্ত নয় এমন পাসপোর্ট
  • প্রয়োজন হলে গন্তব্য দেশের ভিসা
  • ৫,০০০ মার্কিন ডলারের বেশি নগদ থাকলে তা ডিক্লেয়ার

শিশুদের ক্ষেত্রে জন্ম সনদের কপি অনেক সময় প্রয়োজন পড়ে, তাই সেটিও সাথে রাখতে পারেন।

পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আবেদন শুরু করার আগে NID বা BRC-এর ভুলগুলো ঠিক করে নেওয়া। তা হলে আবেদন আটকে থাকবে না এবং পাসপোর্টও হাতে পাবেন দ্রুত।

সরকারি অফিসের দালাল বা ভুয়া লিংকের ফাঁদে না পড়ে শুধু অফিসিয়াল সাইট ব্যবহার করলে যেকোনো নাগরিকই ২০২৫ সালে খুব সহজে নিজের ই-পাসপোর্ট পেতে পারবেন।

Read Previous

বান্দরবানে পাহাড়ি সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পর্যটকের মৃত্যু

Read Next

বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্য মাইক্রোনেশিয়া ভ্রমণ ভিসা: প্রক্রিয়া, ডকুমেন্টস, খরচ ও প্রয়োজনীয় সব তথ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular