
ঈদুল ফিতরের আমেজ না কাটতে কাটতেই পাহাড়ের বিভিন্ন জনপদে ধারন করতে শুরু করেছে বর্ণিল উৎসবের পরিবেশ ।আসছে নতুন বর্ষবরণের এ উৎসবকে সামনে রেখে দুর্গম পাহাড়ের পাড়ায় পাড়ায় চলছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি। উৎসবকে ঘিরে পাহাড়িদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী পোশাক তৈরির হিড়িক পড়েছে। কেউ নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য, কেউ আবার বিক্রির উদ্দেশ্যে কোমর তাঁতের পোশাক তৈরিতে ব্যাস্ত। কোমর তাঁতের বর্ণীল ছন্দময় শব্দ শোনা যাচ্ছে পাহাড়ের বিভিন্ন জনপদে।
পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ ও বিদায়ের অনুষ্ঠান বৈসাবিকে ঘিরে পোশাক তৈরির ব্যস্ততা। ত্রিপুরাদের ‘বৈসু’, মারমাদের ‘সাংগ্রাই’ আর চাকমাদের ‘বিজু’ এ তিনের আদ্যক্ষর ‘বৈসাবি’। পাহাড়ের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী পৃথকভাবে বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু, বিষু, বিহু, নামে বর্ষবরণ ও বিদায়ের উৎসব পালন করে থাকেন। সমতলের লোকজনের কাছে এ উৎসব ‘বৈসাবি’ নামে পরিচিত।

জানা যায়, বৈসাবিকে ঘিরে কোমর তাঁতে পোশাক বোনার রীতি অতি প্রাচীন । এ প্রক্রিয়ায় কাঠ ও বাঁশের কাঠি বিশেষ ভাবে কোমরে বেঁধে কাপড় বোনা হয়। ঐতিহ্যবাহী এ পোশাক চাকমাদের কাছে পিনন-হাদি আর ত্রিপুরাদের কাছে রিনাই-রিসা নামে পরিচিত। পাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক কোমর তাঁতে বোনা হয়। যেকোনো উৎসব আয়োজনে পাহাড়ের চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারীরা এ পোশাক পরেন। বৈসাবি উপলক্ষে পাহাড়ি নারীদের পছন্দের শীর্ষে থাকে পিনন-হাদি বা রিনাই-রিসা।
সম্প্রতি খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়ি স্কুলপাড়া ঘুরে দেখা গেছে, নৃত্য শিল্পী মেয়ের জন্য কোমর তাঁতে রিনাই বুনছিলেন হাকিনী ত্রিপুরা (৩৭)। নিজেদের পছন্দের নকশায় তিনি কোমর তাঁতে রিনাই বুনছেন। উৎসবের আগে মেয়ের জন্য রিনাই বুনন শেষ করতে হবে বলে তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার বাড়ির পাশেই বিক্রির জন্য গত একমাস ধরে রাত-দিন রিনাই বুনছেন রিহাই ত্রিপুরা। এসব পোশাক বিক্রি করা লাভে ছেলে-মেয়ে ও পরিবার নিয়ে বৈসাবি উদযাপন করা হবে বলে জানান।
জানা গেছে, বৈসাবি এলে পিনন-হাদি বা রিনাই-রিসার চাহিদা কয়েকগুন বেড়ে যায়। নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাই বর্ষবরণে ঐতিহ্যবাহি এ পোশাক পড়েন। উৎসবের আগের এ সময়টাতে নতুন পোশাক তৈরিতে কোমর তাঁতের ছন্দময় শব্দ ধ্বনিত হয় পাহাড়ের বিভিন্ন পল্লীতে।



