
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মিত দেশের বৃহৎ কয়লাভিত্তিক ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র আবারও দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ সংকটে পড়েছে। চতুর্থ দফার টেন্ডারও বাতিল করেছে বিদ্যুৎ বিভাগের মূল্যায়ন কমিটি।
তাদের অভিযোগ, কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নের বিভিন্ন ধাপে অনিয়ম ও ত্রুটি পাওয়া গেছে। তাই দরপত্র বাতিল করে দ্রুত নতুন টেন্ডার আহ্বান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কয়লার টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশন—বিশেষ করে ক্যালোরিফিক ভ্যালু, অ্যাশ ফিউশন টেম্পারেচার ও কয়লার সাইজ এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে যেন প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত না হয়। কমিটি ৫ বছরের পরিবর্তে ২ বছরের সরবরাহ চুক্তিরও সুপারিশ করেছে।
প্রথমবার ২০২২ সালের নভেম্বরে টেন্ডার আহ্বান করা হলেও শর্ত পরিবর্তনের কারণে তা বাতিল হয়। পরবর্তী দুই দফায়ও জটিলতা কাটেনি। শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইয়াংথাই এনার্জি কারিগরি দিক থেকে যোগ্য হলেও স্থানীয় কোম্পানিগুলোর অভিযোগে অনিয়মের প্রশ্ন ওঠে। এবারও একই কারণে টেন্ডার বাতিল হলো।
ফলে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট চালু থাকা সত্ত্বেও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহ করা যাচ্ছে। এতে কেন্দ্র পরিচালনাকারী আরএনপিএল বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
প্রকল্প নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে ২ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ১ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার চীনের ঋণ, যা ১৫ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। চার বছরের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণ শোধ শুরু হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রটি পূর্ণ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে না পারায় ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বেড়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হলেও জুনে বাণিজ্যিক উৎপাদনের সময়সীমা পিছিয়ে যায় টেন্ডার জটিলতার কারণে। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলেও সরকারকে বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে। ফলে লোকসানের বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর ভর্তুকি আকারে চাপছে।



