পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানে পর্যটনের সম্ভাবনা, কিন্তু সরকারের উদাসীনতায় হতাশ স্থানীয়রা

পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তান—দুটি অঞ্চলই অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। কিন্তু মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশ, পাহাড়-নদী আর জলপ্রপাত থাকা সত্ত্বেও অঞ্চল দুটিতে পর্যটন অবকাঠামো এবং স্থানীয় উন্নয়নের চরম সংকট বিদ্যমান। দশকের পর দশক ধরে সরকারি অবহেলা এবং অপ্রতুল উদ্যোগের কারণে পিছিয়ে পড়েছে এই সম্ভাবনাময় অঞ্চলগুলো।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন, সরকার চাইলেই অঞ্চল দুটিকে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দিতে পারত। কিন্তু সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুপস্থিতি এবং বিভিন্ন দমনমূলক পদক্ষেপের কারণে বহু সম্ভাবনা আজও অধরাই থেকে গেছে।

সম্প্রতি পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে স্থানীয়দের অর্থায়নে ও শ্রমে নির্মিত একটি জলপ্রপাত বিনা নোটিশে ভেঙে দেয় প্রশাসন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন স্থানীয়রা। এক বাসিন্দা, লাল মানসুর বলেন, “ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকা আমরা নিজেরা মেরামত করি, পর্যটনের জন্য তৈরি করি, কিন্তু সরকার আমাদের কাজ ধ্বংস করে দেয়। এমনকি আমাদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্রও সরিয়ে নিতে দেওয়া হয়নি।”

অন্যদিকে, গিলগিট-বালতিস্তানের পর্যটন ব্যবস্থাও স্থানীয় ও আগত পর্যটকদের হতাশ করছে। রাস্তার বেহাল দশা, পর্যটন নির্দেশনার অভাব, খাবার-হোটেল ইত্যাদির প্রাথমিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ভ্রমণকারীদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

একজন ভ্রমণপিপাসু পর্যটক জানান, “এখানে পর্যটকদের জন্য কোনও ধরনের সহায়ক অবকাঠামো নেই। নিজেরা শহর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস এনে ক্যাম্প করতে হয়। রাস্তা ভাঙাচোরা, কোথাও সাইনবোর্ড নেই। এভাবে তো পর্যটন বিকাশ পায় না।”

তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অঞ্চল দুটি অনন্য। গিলগিট-বালতিস্তানকে বলা হয় ‘স্বর্গের দরজা’। একের পর এক সুউচ্চ পর্বত, হিমবাহের পানি দিয়ে গঠিত ঝরনা ও হ্রদ পর্যটকদের মোহিত করে। এখানেই রয়েছে পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত কে-২। এ ছাড়াও হুনজা উপজাতির মানুষের জীবনধারা, যাদের গড় আয়ু ১০০-১২০ বছর, তা দেখার জন্যও অনেকেই এই অঞ্চলে ভিড় জমান।

২০২৫ সালের জন্য ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রকাশিত ২৫টি ভ্রমণ গন্তব্যের তালিকাতেও স্থান পেয়েছে পাকিস্তানের এই গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চল। বিবিসির মতে, এখানকার পরিবেশ ও সংস্কৃতি পর্যটকদের এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, সরকারের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হলে এই অঞ্চল বিশ্বমানের পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে উপকৃত হবেন স্থানীয়রাও।

সূত্র: দ্য ট্রিবিউন, বিবিসি

Read Previous

পার্বত্য পর্যটন ও সম্মান নিয়ে বিতর্ক: বান্দরবান মন্তব্যের জন্য এনসিপি নেতার দুঃখ প্রকাশ

Read Next

বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক জোরদারে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: অভিবাসন, বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Most Popular