
পর্যটন সংবাদ ডেস্ক: বহুবছর বিচ্ছিন্ন থেকে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের উদ্যোগে চালু হতে যাচ্ছে এক বৃহৎ ও বিলাসবহুল সমুদ্রতীরবর্তী রিসোর্ট—‘ওনসান কালমা ট্যুরিজম রিসোর্ট’। পূর্ব উপকূলের ওনসান শহরে নির্মিত এই বিশাল পর্যটন প্রকল্পটি আগামী ১ জুলাই থেকে দেশীয় পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে।
প্রায় ৪ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতজুড়ে গড়ে তোলা রিসোর্টটিতে ২০ হাজারেরও বেশি পর্যটক একসঙ্গে অবস্থান করতে পারবেন। এতে রয়েছে আধুনিক মানের হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল, ও ওয়াটার পার্ক—যা উত্তর কোরিয়ার মতো রুদ্ধদ্বার সমাজে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রিসোর্টটি অবস্থিত ওনসান শহরেই কিম জং উনের শৈশব কেটেছে। একসময় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য পরিচিত এই শহরকেই এখন পর্যটনের কেন্দ্রবিন্দুতে রূপ দিতে চাচ্ছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই রিসোর্টের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় ছয় বছর আগে, এবং ২০১৯ সালের অক্টোবরে উদ্বোধনের পরিকল্পনা থাকলেও নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে ২৪ জুন এক আনুষ্ঠানিক আয়োজনে কিম নিজেই এর উদ্বোধন করেন, সঙ্গে ছিলেন তাঁর মেয়ে কিম জু এ ও স্ত্রী রি সোল জু।
উদ্বোধনী আয়োজনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মাতসেগোরা ও রুশ দূতাবাসের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে রুশ পর্যটকদের জন্যই রিসোর্টটি চালু করা হবে, কারণ বর্তমানে উত্তর কোরিয়ায় বিদেশিদের প্রবেশ সীমিত এবং রাশিয়ার নাগরিকরাই সেই অনুমতির আওতায় রয়েছেন।
বিশ্বব্যাপী চলমান নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দিয়ে উত্তর কোরিয়া পর্যটন খাতকে আবারও সচল করতে চায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, এ উদ্যোগ মূলত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি বিকল্প পথ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যটনের জন্য রিসোর্টটি কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট ঘোষণা আসেনি।
পর্যটন বিশ্লেষকরা বলছেন, কিম সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক প্রকাশের একটি কৌশলও হতে পারে। ‘উরি ট্যুরস’-এর পরিচালক এলিয়ট ডেভিস বলেন, “উত্তর কোরিয়া এক নান্দনিক কৌতূহলের জায়গা। দেশটির সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে নির্মিত একটি সমুদ্রসৈকত রিসোর্ট—এটি নিঃসন্দেহে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা দেবে।”
রিসোর্টটি ঘিরে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, এটি ‘জাতীয় জীবনে এক শুভ মুহূর্ত’ এবং ‘পর্যটনের এক নতুন যুগের সূচনা’।



